নব্বইয়ের দশকের পর্দা কাঁপানো জুটি সালমান শাহ ও শাবনূর। সময় পেরিয়েছে বহু বছর, কিন্তু দর্শকের হৃদয়ে এখনো অমলিন সেই জুটির স্মৃতি। সালমান শাহর জন্মদিনে সেই সোনালি দিনগুলোতেই যেন ফিরে গেলেন শাবনূর। প্রয়াত এই নায়কের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তুলে ধরলেন তার মানবিকতার গল্প, জানালেন আবেগঘন এক বিশেষ অনুরোধও।
১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন ঢালিউডের ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহ। মাত্র সাড়ে তিন বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন দর্শকের প্রিয় তারকা। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে অভিষেকের পর খুব অল্প সময়েই নিজের স্বতন্ত্র স্টাইল ও অভিনয় দিয়ে জায়গা করে নেন তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে।
সালমান শাহর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সিনেমায় জুটি বেঁধেছিলেন শাবনূর। পর্দায় তাদের রসায়ন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তাই সালমানকে ঘিরে স্মৃতিচারণে শাবনূরের কথাও যেন অবিচ্ছেদ্য হয়ে ওঠে।
সালমানের জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শাবনূর লিখেছেন, নব্বইয়ের দশকের সেই সোনালি দিনগুলো আজও তার চোখের সামনে ভাসে। শুটিং সেটে সালমান শুধু একজন জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন না, ছিলেন অসাধারণ হৃদয়ের একজন মানুষ।
শাবনূর বলেন, শুটিং ইউনিটের কর্মী কিংবা সাধারণ অভিনয়শিল্পী—কাউকেই ছোট করে দেখতেন না সালমান। সবার খোঁজখবর নিতেন, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতেন এবং আপন করে যত্ন নিতেন। তার সুন্দর মন ও মানবিকতাই তাকে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে দিয়েছিল।
পুরোনো কোনো গান শুনলে কিংবা সালমানের কোনো সিনেমার দৃশ্য চোখে পড়লে সেই সময়ের স্মৃতি ফিরে আসে বলেও জানান শাবনূর। তার অনুভূতিতে, তখন মনে হয় সালমান যেন আবারও ফিরে এসেছেন সেই সোনালি দিনগুলোতে।
জন্মদিনের এই স্মৃতিচারণের শেষদিকে সালমান শাহর জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা ও জান্নাত প্রার্থনা করেন শাবনূর। পাশাপাশি প্রয়াত এই নায়ককে নিয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শাবনূরের বিশেষ অনুরোধ—সালমান শাহকে নিয়ে কেউ যেন কোনো ধরনের মিথ্যা অপবাদ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কিংবা অসম্মানজনক মন্তব্য না করেন। প্রয়াত এই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান অটুট রেখে তার অমর স্মৃতিকে ভালোবাসা ও মর্যাদার সঙ্গে হৃদয়ে ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সালমান শাহর চলচ্চিত্রযাত্রার শুরুতে মৌসুমীর সঙ্গে জুটি গড়লেও পরবর্তী সময়ে শাবনূরের সঙ্গে তার জুটি বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। তাদের সিনেমা মুক্তি পেলেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের উপচেপড়া ভিড় দেখা যেত। পর্দার সেই জনপ্রিয় জুটি আজও দর্শকের স্মৃতিতে একইভাবে উজ্জ্বল।
সালমান শাহ ওশাবনূর অভিনিত উল্লেখযোগ্য ও দর্শকনন্দিত সিনেমার মধ্যে রয়েছে—
তুমি আমার (১৯৯৪), সুজন সখী, বিক্ষোভ, স্বপ্নের ঠিকানা, মহামিলন, বিচার হবে, তোমাকে চাই, স্বপ্নের পৃথিবী, জীবন সংসার, চাওয়া থেকে পাওয়া, প্রেম পিয়াসী, স্বপ্নের নায়ক, আনন্দ অশ্রু, বুকের ভেতর আগুন
‘তুমি আমার’ ছিল সালমান শাহ ও শাবনূরের প্রথম একসঙ্গে অভিনীত সিনেমা। এরপর একের পর এক সিনেমায় জুটি হয়ে তারা দর্শকের কাছে পরিচিতি পান।
উল্লেখযোগ্যভাবে স্মরণীয় সিনেমা: তুমি আমার, সুজন সখী, স্বপ্নের ঠিকানা, মহামিলন, তোমাকে চাই, স্বপ্নের পৃথিবী, জীবন সংসার ও আনন্দ অশ্রু।