বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল এক নাম কোহিনূর আক্তার সুচন্দা। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা ও নির্মাণেও রেখেছেন নিজের স্বতন্ত্র ছাপ। দীর্ঘ শিল্পীজীবনে পেয়েছেন দর্শকের ভালোবাসা ও সম্মান। জন্মদিনে নিজের জীবন ও চলচ্চিত্রজীবনের নানা অধ্যায় নিয়ে কথা বলেছেন এই বরেণ্য অভিনেত্রী।
জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে সুচন্দা বলেন, জীবনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ও দুঃখ-কষ্ট এলেও তিনি সেসবের হিসাব করে বসেননি। বরং যা পেয়েছেন, সেটুকুতেই তিনি সন্তুষ্ট।
তার ভাষায়, ‘জীবনে যা পেয়েছি, সেটুকুই আমার জন্য যথেষ্ট।’ মানুষের ভালোবাসা ও দর্শকের স্বীকৃতিকেই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন তিনি।
জন্মদিনের স্মৃতিচারণ করে সুচন্দা জানান, ছোটবেলায় ঘটা করে জন্মদিন উদযাপনের প্রচলন ছিল না। মায়ের হাতের রান্না, নতুন জামা এবং পরিবারের ভালোবাসাই ছিল জন্মদিনের আনন্দ। সেই শৈশবের দিনগুলো এখনো তার মনে পড়ে।
বর্তমানে অবশ্য নাতি-নাতনিদের কারণে জন্মদিনের আয়োজন কিছুটা ভিন্ন। ছেলেমেয়েদের ঘর মিলিয়ে তার নাতি-নাতনির সংখ্যা নয়জন। তারা নানা ধরনের খাবার রান্না করে, উপহার দেয় এবং পছন্দের ফুল দিয়ে বাড়ি সাজিয়ে জন্মদিন উদযাপন করে। তাদের এসব আয়োজন তিনি উপভোগ করেন বলেও জানান।
জীবনকে সুচন্দা তুলনা করেছেন রঙিন বেলুনের সঙ্গে। তার মতে, রঙিন বেলুন যেমন সুন্দর, জীবনও তেমনি আনন্দময়; তবে যেকোনো সময় বেলুন ফেটে যাওয়ার মতো জীবনও ক্ষণস্থায়ী। তাই যতদিন বেঁচে আছেন, জীবনকে আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করতে চান তিনি।
দর্শক ও ভক্তদের ভালোবাসাকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় অর্জন মনে করেন সুচন্দা। এত বছর পরও মানুষ তাকে মনে রেখে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানোয় তিনি আনন্দিত। তার মতে, একজন শিল্পীর জন্য দর্শকের ভালোবাসার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।
বর্তমান চলচ্চিত্র নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণের ধরন ও প্রযুক্তি বদলেছে। এখন কাজের সুযোগ ও প্রযুক্তিগত সুবিধা অনেক বেশি। তবে চলচ্চিত্রের মূল শক্তি হিসেবে ভালো গল্প ও অভিনয়ের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন তিনি।
নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কাজ নিয়েও আশাবাদী সুচন্দা। তার মতে, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই ভালো কাজ করছে এবং তাদের মধ্যে প্রতিভা ও শেখার আগ্রহ রয়েছে। সুযোগকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে তারা চলচ্চিত্রকে আরও এগিয়ে নিতে পারবে।
জন্মদিনে নিজের জন্য বড় কোনো চাওয়া নেই বলেও জানান সুচন্দা। সুস্থ থাকা, ভালো থাকা এবং মানুষের ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকাই এখন তার প্রধান চাওয়া।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান পাওয়া এই শিল্পীর কাছে তাই জীবনের হিসাবটা প্রাপ্তিরই—অপূর্ণতার নয়।
সুচন্দার উল্লেখযোগ্য ও দর্শকনন্দিত সিনেমার মধ্যে রয়েছে—
কাগজের নৌকা, জীবন থেকে নেয়া, বেহুলা, আনোয়ারা, কাঁচের দেয়াল, সুজন সখী, সাত ভাই চম্পা, অবুঝ মন, চাওয়া পাওয়া
চন্দ্রনাথ
বিশেষ করে ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘বেহুলা’, ‘আনোয়ারা’ ও ‘কাগজের নৌকা’—বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সুচন্দার অভিনয়জীবনের উল্লেখযোগ্য কাজ হিসেবে আলোচিত।