‘শুধু দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ নয়, গোটা জামালপুর আমার’—এমন মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে জামালপুরবাসীকে পাশে পেয়েছেন। এ কারণে জেলার মানুষের প্রতি তিনি আজীবন কৃতজ্ঞ।
পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে জামালপুর সমিতি, ঢাকা আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জামালপুরবাসীর দোয়া ও ভালোবাসা ছাড়া তাঁর বর্তমান অবস্থানে আসা সম্ভব হতো না। তিনি সবসময় জামালপুরের মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছেন। ২০০১ সালে জামালপুরবাসী তাঁকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন এবং ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ আসন থেকে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন। তাঁর সংসদীয় আসন বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সৎ পথে চলা ও সত্য কথা বলার চেষ্টা করলে আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়। নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতেই আজ তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বক্তব্যে তিনি জামালপুরের প্রয়াত রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁর নেতৃত্ব জামালপুরবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
জামালপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেলার পর্যটন খাতের বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লাওচাপড়াকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝিনাইগাতীতে পর্যটন হোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলার পর্যটন স্পটগুলোকে পরিকল্পিতভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার পর্যটকদের জামালপুরে আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
যমুনা নদীর ভাঙন রোধের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। এ জন্য একটি প্রকল্প বর্তমানে একনেকে রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে নদীভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জামালপুরের মানুষের সুরক্ষায় তা ভূমিকা রাখবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জামালপুরের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জামালপুর সমিতি ঢাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।