বিদেশযাত্রায় বাধা আসছে আসিফ মাহমুদের, নিষেধাজ্ঞা চায় দুদক

ভোরের ডাক ডেস্ক

রাজনীতি

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত

2026-09-17T14:32:44+00:00
2026-09-17T14:32:44+00:00
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজনীতি
বিদেশযাত্রায় বাধা আসছে আসিফ মাহমুদের, নিষেধাজ্ঞা চায় দুদক
ভোরের ডাক ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। অনুসন্ধান বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁর দেশত্যাগ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হবে।

দুদক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার, সরকারি পদে নিয়োগ ও পদায়নে অর্থ লেনদেন, টেন্ডার-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নথিপত্র পর্যালোচনার কাজ চলছে।

দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে অর্থ পাচার করে সেখানে বিলাসবহুল সম্পদ কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের একটি ব্যবসায়িক গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ রাখার অভিযোগও রয়েছে।

বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন পদে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক পদায়নে কয়েক কোটি টাকা করে লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের টেন্ডার-বাণিজ্য এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডারেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা নিয়োগেও অর্থ লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক।

অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদায়ন এবং সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেন হয়েছে। পদোন্নতির পর পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের ক্ষেত্রেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন এবং তাঁর এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও ঠিকাদারদের একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরবর্তী সময়ে পাওয়া নতুন অভিযোগগুলোও ওই অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করার কথা জানায় সংস্থাটি।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং দুদকের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন আসিফ মাহমুদ। গত ৯ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। পরে তাঁর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের কাছে আইনি নোটিশ পাঠান।

গত ১১ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, তদন্তের ফলাফল বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের আগেই দুদকের বক্তব্যের কারণে তাঁকে নিয়ে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়েছে। এতে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে—এমন ধারণা তৈরি হয়ে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।


Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: