বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে রূপান্তর করে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান ৮ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকায় ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্বোধন করে তিনি এ লক্ষ্য ও সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা অংশ নিয়েছে। প্রায় ৩০০টি স্টলে বিভিন্ন দেশের পর্যটন গন্তব্য, পর্যটনপণ্য, সেবা ও বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বৈচিত্র্যময় পর্যটন সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ। সুন্দরবন, কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়-ঝরনা-হ্রদসহ দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই রয়েছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির বৈচিত্র্য।
তিনি বলেন, এসব সম্ভাবনাকে একটি সুপরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পর্যটনশিল্পে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য।
মন্ত্রী জানান, দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে একটি Tourism Master Plan প্রণয়নের কাজ চলছে। এতে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ ও গন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এসব পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো, সেবা, বিনোদন ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন পর্যটন নীতিমালায় বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (PPP) গুরুত্ব পাবে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান ৮ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে পরিকল্পিত বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ, আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত সেবা, কার্যকর বিপণন ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া পর্যটনশিল্পের টেকসই বিকাশ সম্ভব নয়। বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলালসহ নেপাল, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।