১২ নভেম্বরের ইউপি ভোট কি হচ্ছে? সরকারের বক্তব্যের পর ইসির নতুন সুর

ভোরের ডাক ডেস্ক

রাজনীতি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। সোমবার ইসি জানিয়েছিল, আগামী

2026-09-16T18:49:26+00:00
2026-09-16T18:49:26+00:00
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজনীতি
১২ নভেম্বরের ইউপি ভোট কি হচ্ছে? সরকারের বক্তব্যের পর ইসির নতুন সুর
ভোরের ডাক ডেস্ক
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৯ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। সোমবার ইসি জানিয়েছিল, আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন শুরু হবে। তবে পরদিন সরকারের একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে সরকার কিছু জানে না। এরপর ঘোষিত তারিখকে ‘প্রাথমিক’ বলে অবস্থান পরিষ্কার করেছে কমিশন।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কাজ করতে পারে না। একই দিন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা আলোচনা হয়নি।

সরকারের বক্তব্যের পর নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিই কমিশনের কাছে শিরোধার্য। এ বিষয়ে তিনি পাল্টা মন্তব্য করবেন না বলেও জানান।

এরপর নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, কমিশন যে তারিখ ঘোষণা করেছে, সেটি প্রাথমিক। আগামী বৃহস্পতিবার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

তবে ইসি সচিবালয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগকে চিঠি দিয়ে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন। চিঠিতে ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী মেয়াদ পূরণের আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।

পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও সরকারের কাছে পৃথকভাবে তথ্য চেয়েছিল কমিশন। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে গত ২ আগস্ট ইউপি নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ইসিকে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে। আর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তাঁর মতে, নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারের আর্থিক ও আইনশৃঙ্খলা সহায়তা প্রয়োজন হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের অনুমতির কথা আইনে নেই।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল আলীম বলেন, সরকার ও ইসির মধ্যে নির্বাচন নিয়ে চিঠি চালাচালি হয়ে থাকলে তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। সে ক্ষেত্রে দুই পক্ষের বক্তব্যে এমন দূরত্ব থাকা অনুচিত।

সোমবার ইসির প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছিলেন, আগামী ১২ নভেম্বর দেশের ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সাত ধাপে নির্বাচন শেষ করার প্রাথমিক পরিকল্পনায় শেষ ধাপের ভোট আগামী বছরের ২৭ মে করার কথা বলা হয়েছিল।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হবে। ফলে ইসির ঘোষিত সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক নিয়োগ করে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অনুপস্থিত চেয়ারম্যানদের জায়গায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেড় হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যেও ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে বিএনপির অবস্থান ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে। ক্ষমতায় আসার পর দলটির নেতারাও এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন।

এদিকে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার-বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাঁর ভাষ্য, সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ইসি ঘোষিত তারিখ এগিয়ে নেওয়া, পিছিয়ে দেওয়া বা পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে।


Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: