রাজধানীর পল্লবীতে সাংবাদিকের বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় ‘ভইরা-দে’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য মো. আতিক ওরফে চোরা আতিককে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৪। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি খালি ম্যাগাজিন ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
পাশাপাশি পৃথক অভিযানে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা (৩৮) এবং ইয়াবাসহ আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসআরবি-৪ জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১টা ৩৫ মিনিটে পল্লবীর সবুজবাংলা এলাকায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা টিভির প্রতিবেদক প্রান্ত পারভেজের বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দুটি মোটরসাইকেলে চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি তার বাসায় গিয়ে তাকে খোঁজাখুঁজি করেন। একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে তারা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজ পল্লবী থানায় মামলা করেন। এরপর ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি-৪। তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে ১৫ সেপ্টেম্বর পল্লবীর তালতলা বস্তি এলাকায় রবিন (২২)-এর বাসায় অভিযান চালানো হয়। তবে এসআরবি-৪-এর উপস্থিতি টের পেয়ে রবিন পালিয়ে যায়। এ সময় তার মা মাদক ব্যবসায়ী মোছা. ডলি বেগমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ৭৪৫ পিস ইয়াবা ও ১৫ গ্রাম ইয়াবার গুঁড়া উদ্ধার করা হয়।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১টার দিকে পল্লবীর মোহাম্মদিয়া মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি এবং ‘ভইরা-দে গ্রুপের’ সক্রিয় সদস্য আতিক ওরফে চোরা আতিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আতিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবীর সেকশন-১১, এভিনিউ-৫ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় এসআরবি-৪-এর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে একটি টিনের ঘরের পেছন থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি খালি ম্যাগাজিন ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি-৪-এর দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আতিক জানিয়েছে, মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় ‘ভইরা-দে’ বা ‘আশিক গ্রুপের’ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি নিয়ে সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ওই সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে গ্রুপের প্রধান আশিকের নির্দেশে সাংবাদিকের বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে পৃথক অভিযানে ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার আজিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানাকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙে পালিয়ে গিয়েছিলেন।
এসআরবি-৪ জানায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগে সোহেল রানা কারাগার ভেঙে পালিয়ে যান। পালানোর সময় কারারক্ষীদের আহত করার অভিযোগও রয়েছে। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।
সংস্থাটি জানায়, সোহেল রানা ও মানিকগঞ্জের সিংগাইরের জহির (২০) একই এলাকার প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। জহির হত্যার ঘটনায় সোহেল রানাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয় এবং ২০১৯ সালে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সোহেল রানাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া পল্লবী এলাকায় পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য মো. নিলয় সুজনকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ছয়টি মোবাইল ফোন, দুটি রামদা ও এক পুরিয়া পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৪।