ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ বছরের লড়াই করছেন এক সময়ের জনপ্রিয় উপস্থাপিকা সামিয়া আফরিন। চিকিৎসার মধ্য দিয়ে একপর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছিল। স্বাভাবিক জীবনেও ফিরেছিলেন তিনি। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
প্রায় চার মাস আগে ফের তার শরীরে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার শনাক্ত হয়। এবার তার শরীরে ধরা পড়ে ওভারিয়ান ক্যান্সার। চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছে তাকে।
কেমোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হারালেন চুল : চিকিৎসকেরা আগেই সামিয়াকে জানিয়েছিলেন, কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে চুল পড়ে যেতে পারে। বিষয়টিকে ভয় বা হতাশার কারণ না বানিয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুত হন তিনি।
কিছুদিন আগে নিজেই চুল ছোট করে নিয়েছিলেন সামিয়া। এবার পুরো মাথা ন্যাড়া করে নিজের নতুন লুকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন তিনি।
ছবির সঙ্গে দেওয়া তার লেখায় উঠে এসেছে কঠিন বাস্তবতাকে গ্রহণ করার দৃঢ় মানসিকতা। চুল হারানোর অভিজ্ঞতাকে তিনি দেখছেন জীবনের আরেকটি অধ্যায় হিসেবে।
‘কঠিন গল্প, তবে সাহসেরও গল্প’ : সামিয়া লিখেছেন, জীবনে আবার এমন একটি সময় আসবে, যখন তাকে পুরোপুরি টাক মাথার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে—এটি কখনো ভাবেননি। ছোটবেলায় এমনটা হয়ে থাকলেও তখন বিষয়টি বোঝার মতো বয়স ছিল না বলেও জানান তিনি।
তবে বড় হওয়ার পর কোনো বিশেষ কারণ ছাড়া চুল হারানোর অভিজ্ঞতা খুব কম মানুষেরই হয়—এমন উপলব্ধির কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
তার ভাষায়, জীবনের সব পরিবর্তন নিজের ইচ্ছামতো আসে না। কিছু বাস্তবতা মেনে নেওয়া কঠিন হলেও শেষ পর্যন্ত সেটিকে গ্রহণ করতে হয়। সেই গ্রহণযোগ্যতার মধ্যেই তিনি খুঁজে নিয়েছেন নিজের শক্তি।
‘সৌন্দর্য শুধু আয়নায় দেখা যায় না’ : সামিয়ার কাছে চুল থাকা বা না থাকার সঙ্গে সৌন্দর্যের প্রকৃত সম্পর্ক নেই। বরং নিজের পরিবর্তিত রূপকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করতে পারাটাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের নতুন লুককে তিনি কেবল বাহ্যিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই, কঠিন সময় পার করার সাহস এবং নিজের প্রতি ভালোবাসার গল্প।
সামিয়ার উপলব্ধি, এই লুক তার জীবনের একটি কঠিন অধ্যায়ের প্রতিচ্ছবি হলেও একই সঙ্গে এটি তার সাহস ও আত্মগ্রহণেরও প্রতীক।
‘নিজের এই রূপ নিয়ে কোনো সংকোচ নেই’ : নিজের নতুন রূপ নিয়ে কোনো ধরনের সংকোচ নেই জানিয়ে সামিয়া কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন জীবনের প্রতিটি অবস্থার জন্য।
তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই কঠিন সময়ও একদিন পেরিয়ে যাবে। অসুস্থতার মধ্যেও তার এই আত্মবিশ্বাসী অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে উঠে এসেছে।
ক্যান্সারের চিকিৎসার কঠিন পথ পাড়ি দিতে গিয়ে সামিয়ার এই নতুন লুক তাই শুধু চেহারার পরিবর্তন নয়—তার কাছে এটি জীবনের একটি গল্প; যেখানে রয়েছে লড়াই, গ্রহণযোগ্যতা, সাহস এবং নিজের প্রতি ভালোবাসা।