আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, ‘মনগড়া নয়’ বলল দুদক

ভোরের ডাক ডেস্ক

রাজনীতি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগকে

2026-09-15T18:49:12+00:00
2026-09-15T18:49:12+00:00
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজনীতি
আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, ‘মনগড়া নয়’ বলল দুদক
ভোরের ডাক ডেস্ক
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৯ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগকে ‘মনগড়া নয়’ বলে দাবি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধান চলছে জানিয়ে দুদক বলেছে, প্রয়োজন হলে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে তথ্য চাওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সংস্থাটির সচিব সাইদুর রহমান খান।

দুদক সচিব বলেন, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে যাওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান ও তদন্তে যেসব তথ্য পাওয়া যাবে, সেগুলোর ভিত্তিতেই পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুদক কী করছে, সেটি পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যাবে অভিযোগের ভিত্তি আছে কি না।

সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘মন মতো কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে দুদক সচিব বলেন, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলআর) পাঠানো হবে।

অভিযোগে যেসব দেশে অর্থপাচারের কথা বলা হয়েছে, সেসব দেশের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে বলে জানান তিনি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সারবত্তা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আসিফ মাহমুদ দায়িত্বে থাকার সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে হওয়া নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি ইতোমধ্যে দুদকের হাতে এসেছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর এসব নথি চেয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল দুদক। পরে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র কমিশনে পাঠায়।

এর আগে ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের জন্য উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিমও গঠন করা হয়।

এর মধ্যে গত ১৩ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগ আলাদাভাবে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক পদায়ন, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশে বিপুল অর্থপাচারের অভিযোগ।

দুদকের কাছে জমা পড়া অভিযোগে পাঁচ দেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড ও পর্তুগালে অর্থ স্থানান্তর, সম্পদ কেনা ও বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ এখনো দুদকের অনুসন্ধানাধীন এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং ৩৬ জেলায় জেলা প্রশাসক পদায়নে জনপ্রতি ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো ও অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের তথ্য প্রকাশের পর সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ। তার দাবি, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে তার মানহানি করা হয়েছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আইনি নোটিশও পাঠান তিনি।

তবে তার আগের দিন, ৯ সেপ্টেম্বর দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান জানিয়েছিলেন, আইন ও বিধি অনুযায়ী আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে।

দুদক বলছে, অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষ হওয়ার পর পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: