জনবল সংকটে প্রাণিসম্পদ দপ্তর, মানসম্মত সেবা নিশ্চিতে হিমশিম

রাজবাড়ী জেলা সংবাদদাতা

সারাদেশ

রাজবাড়ীতে প্রাণিসম্পদ দপ্তরগুলোতে জনবল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর বাড়ছে অতিরিক্ত কাজের চাপ। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর,

2026-09-15T12:14:35+00:00
2026-09-15T12:14:35+00:00
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
জনবল সংকটে প্রাণিসম্পদ দপ্তর, মানসম্মত সেবা নিশ্চিতে হিমশিম
রাজবাড়ী জেলা সংবাদদাতা
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম 
ছবিঃ ভোরের ডাক

রাজবাড়ীতে প্রাণিসম্পদ দপ্তরগুলোতে জনবল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর বাড়ছে অতিরিক্ত কাজের চাপ। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, ভেটেরিনারি হাসপাতাল, জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ৬২ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। খাতা-কলমে কর্মরতদের মধ্যেও অনেকে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও প্রেষণে (ডেপুটেশন) রয়েছেন।

জনবল সংকটের কারণে একদিকে যেমন প্রাণিসেবা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে কর্মরত চিকিৎসক ও কর্মচারীদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, ভেটেরিনারি হাসপাতাল, জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোট ৯০টি পদ অনুমোদিত রয়েছে।

এর মধ্যে কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের পদ ১৭টি এবং কর্মচারীর পদ ৭৩টি। অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে ৫৩টি শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসকের পদ ৫টি এবং কর্মচারীর পদ ৪৮টি। এ ছাড়া তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রশিক্ষণ ও প্রেষণে রয়েছেন।

শুধু জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরেই মোট ১৩টি পদ অনুমোদিত। এর মধ্যে কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের পদ ৩টি এবং কর্মচারীর পদ ১০টি। বর্তমানে একজন চিকিৎসক ও ছয়জন কর্মচারীসহ মোট সাতটি পদ শূন্য রয়েছে।

জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে মোট পদ রয়েছে ৭টি। এর মধ্যে ৩টি পদ শূন্য। দপ্তরটির একমাত্র ভেটেরিনারি সার্জন দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় প্রেষণে রয়েছেন। ফলে মাত্র তিনজন জনবল দিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে কর্মরতদের ওপর যেমন অতিরিক্ত চাপ পড়ছে, তেমনি মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা পর্যায়ের ভেটেরিনারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে সবচেয়ে করুণ অবস্থা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের। দপ্তরটিতে মোট ১১টি পদ রয়েছে। খাতা-কলমে পাঁচজন কর্মরত থাকলেও বাস্তবে আছেন তিনজন। তাঁদের মধ্যে দুজন চুয়াডাঙ্গার ভেটেরিনারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে তিন বছরের প্রশিক্ষণে রয়েছেন।

সেখানকার একমাত্র চিকিৎসক ভেটেরিনারি সার্জনের পদটিও শূন্য। পাশাপাশি এসএএলএস (সম্প্রসারণ) দুজন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ সহকারী, এসএএলও (প্রাণিস্বাস্থ্য) ও অফিস সহায়কের পদসহ মোট আটটি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে।

এ ছাড়া পাংশা ও গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে ৭টি করে, বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ৪টি এবং কালুখালী হাসপাতালে ৪টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, কাঠামো অনুযায়ী জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রে মোট ১৭ জন জনবল থাকার কথা। সেখানে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। ফলে বাকি ১৫টি পদই শূন্য রয়েছে।

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা খায়ের উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কাজ করতে হয়। টিকাদান ও খামার পরিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দপ্তরের একমাত্র চিকিৎসকের পদটি শূন্য রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ সহকারী ও এসএএলএস (সম্প্রসারণ) নেই। ১১ জনের পরিবর্তে কর্মরত তিনজনকেই একই কাজ করতে হচ্ছে। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু খামারিদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

পাংশা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শাকিল আহমেদ বলেন, ‘দপ্তরের ১১টি পদের মধ্যে সাতটি পদ শূন্য রয়েছে। এখানে চিকিৎসকের পদ শূন্য নেই। তবে একজন চিকিৎসকের সহযোগীও প্রয়োজন হয়। লোকবল না থাকায় মাঠপর্যায়ে খামার পরিদর্শন ও টিকাদানের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।’

কালুখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম রতন বলেন, ‘সাধারণত উপজেলাগুলোতে অনুমোদিত পদ রয়েছে ১১টি। কিন্তু কালুখালীতে অনুমোদিত পদই দুটি কম। বর্তমানে আমাদের কাজের ধরন অনুযায়ী সেবা মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে হয়। মাঠপর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে কর্মী না থাকলে আমাদের কাজ ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ মূলত দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদন নিয়ে কাজ করে। ডেইরি খামার, পোলট্রি খামার, ডেইরি খাদ্য, পোলট্রি খাদ্যসহ প্রাণিসম্পদ-সম্পর্কিত বিভিন্ন কার্যক্রম দপ্তরটি পরিচালনা করে। রোগ প্রতিরোধে টিকাদান ও চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে নিরাপদ দুধ ও ডিম উৎপাদনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের জনবলের কাঠামো বেশ পুরোনো। এই কাঠামো অনুযায়ী যে জনবল থাকার কথা, সেখানেই বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘টিকা প্রদান ও প্রজনন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ মাঠকর্মী প্রয়োজন, আমাদের সে ধরনের মাঠকর্মীও নেই। জেলায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ জনবলের পদ শূন্য রয়েছে। জনবলের এই ঘাটতি নিয়ে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা এ পরিস্থিতি সম্পর্কে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’

এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক (ডিডি) ডা. মো. কামাল বাশার বলেন, ‘জনবলের ঘাটতি নিয়ে মানুষের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া খুবই কঠিন। আমাদের দপ্তরটি সম্প্রতি সৃষ্টি হওয়ায় এ ধরনের সমস্যা রয়ে গেছে। জনবলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সংকটের বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’



Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: