পিরোজপুরের নেছারাবাদে মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে লোহার রড দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে মসজিদ থেকে ওই শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে টুটুল, ইমরান ও আলমগীর নামে তিনজনকে মারধরের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ১৪ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী উপজেলার চিলতলা গ্রামের মৃধা বাড়ির ছেলে এবং স্থানীয় চিলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
পরিবার ও শিক্ষার্থীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে বাবার পকেট থেকে না বলে টাকা নিয়ে একটি মোবাইল ফোন কেনে ওই শিক্ষার্থী। বিষয়টি জানাজানি হলে বাবার ভয়ে সে রাতে বাড়িতে না ফিরে বাড়ির সামনের একটি মসজিদে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ফার্ম ব্যবসায়ী টুটুল মসজিদ থেকে তাকে ডেকে তোলেন। পরে তাদের ফার্ম থেকে মুরগি চুরির অভিযোগ তুলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় টুটুল লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীর।
শিক্ষার্থীর দাবি, টুটুলের সঙ্গে ইমরান ও আলমগীরও সেখানে ছিলেন। মারধরের ভয়ে সে ফার্মে ঢোকার কথা স্বীকার করলেও কোনো মুরগি চুরি করেনি বলে জানায়। পরে তাকে স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন মৃধার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মারধরের পর অসুস্থ অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বলেন, ছেলে বাবার পকেট থেকে টাকা নিয়ে মোবাইল ফোন কেনায় ভয়ে বাড়িতে আসেনি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
থানায় অভিযোগকারী বলেন, আমার নাতি অষ্টম শ্রেণির একজন ছাত্র। তাকে মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে অমানুষিকভাবে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
তবে মারধরের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেননি টুটুল। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে তাদের ফার্ম থেকে মুরগি ও গাছের সুপারি চুরি হচ্ছিল। ঘটনার রাতে মসজিদের সামনে ওই শিক্ষার্থীকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় সে ফার্মে ঢোকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
মারধরের বিষয়ে টুটুল বলেন, পরে আমি দুই-চারটা পিটান দিয়েছি। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ডেকে শিক্ষার্থীকে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
ইউপি সদস্য লিটন মৃধা বলেন, সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেটিকে দেখতে পাই। তবে আমি তাকে মারধর করতে দেখিনি।
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার সংক্রান্তে একটা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।