চট্টগ্রামের রাউজানসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রের মহড়ার অভিযোগ ওঠা শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করেছে র্যাব। দুর্গম পাহাড়কে আস্তানা বানিয়ে আত্মগোপনে থাকা রায়হানকে ধরতে আলাদা বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাটে র্যাব-৭-এর চান্দগাঁও ক্যাম্পের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য জানান।
র্যাব-৭ অধিনায়ক বলেন, রায়হান রাউজানের গভীর পাহাড়ি অঞ্চলকে নিজের মূল আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। দুর্গম ওই এলাকায় গাড়ি নিয়ে দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ নেই। এমনকি অনেক এলাকায় সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্কও পাওয়া যায় না। এসব ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছে সে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের একাধিক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে রায়হানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য রয়েছে। তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে না পারা র্যাবের জন্য আক্ষেপের বিষয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল নজরদারি এড়াতে রায়হান ও তার সহযোগীরা স্থানীয় বা দেশীয় মোবাইল সিম ব্যবহার করে না। যোগাযোগের ক্ষেত্রে তারা বিদেশি নম্বর ও অ্যাপভিত্তিক আইপি কল ব্যবহার করে বলে জানা গেছে।
সূত্রের দাবি, অপরাধ সংঘটন বা সহযোগীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে রায়হান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পাহাড় থেকে সমতলে নামে। সেখানে মাত্র কয়েক মিনিট অবস্থান করে আবার দ্রুত পাহাড়ি আস্তানায় ফিরে যায়।
র্যাবের ভাষ্য, রায়হান দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় রাউজানের পাহাড়ি এলাকার পথঘাট ও দুর্গম স্থানগুলো সম্পর্কে তার ভালো ধারণা রয়েছে। ফলে অভিযান পরিচালনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নানা ধরনের ভৌগোলিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
এর আগে রাউজান ও চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস, হামলা এবং অনলাইনে অস্ত্রের মহড়ার একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
এসব ঘটনায় পুলিশ ও র্যাব ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে রায়হানের অন্যতম সহযোগী ডেভিড ইমনসহ চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। তবে মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত রায়হান ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আসছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
র্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য এসেছিল সে সমতলে এসেছে, কিন্তু আমরা পৌঁছানোর আগেই সে স্থান পরিবর্তন করে ফেলে।’
তিনি আরও বলেন, সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে রায়হানকে গ্রেফতারে একটি আলাদা বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। দলটি সার্বক্ষণিক এ মামলাটি নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও সমন্বিতভাবে মাঠে রয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রযুক্তিগত ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও রায়হানের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মতবিনিময় সভায় র্যাব-৭ সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেনসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।