আসিফ আমলের নিয়োগ-পদোন্নতির নথি দুদকে, খুলছে কি দুর্নীতির ফাইল?

ভোরের ডাক ডেস্ক

রাজনীতি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে হওয়া নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির গুরুত্বপূর্ণ

2026-09-14T14:50:08+00:00
2026-09-14T14:50:08+00:00
  রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
৯ কার্তিক ১৪৩৩
 
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
রাজনীতি
আসিফ আমলের নিয়োগ-পদোন্নতির নথি দুদকে, খুলছে কি দুর্নীতির ফাইল?
ভোরের ডাক ডেস্ক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫০ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে হওয়া নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পৌঁছেছে। এসব নথি যাচাই-বাছাই করে কোনো আইন বা বিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে সংস্থাটি। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনও পরীক্ষা করা হতে পারে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে বিভিন্ন নথি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রণালয়ে সম্পাদিত নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত নথিপত্র চাওয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে অধিকাংশ নথি দুদকে জমা পড়েছে।

দুদকের ওই কর্মকর্তা জানান, নথিগুলো যাচাই করে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে আইন ও বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা দেখা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আর্থিক লেনদেনও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এ অনুসন্ধানে উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

এদিকে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নতুন করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য, টেন্ডার কমিশন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন অভিযোগগুলো আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে সমন্বয় করে দেখা হবে।

অভিযোগে বিশ্বের পাঁচ দেশে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। পর্তুগালে দুর্নীতির অর্থ দিয়ে জমি কেনার অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং ৩৬ জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে বলে দুদক জানিয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কমিশন নেওয়া, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ-বদলি-পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনসহ আরও বেশ কিছু অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগের মধ্যে আরও রয়েছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ঢাকা ওয়াসার প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার দাবি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিফ মাহমুদ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কখনও ১ লাখ ২০ হাজার কোটি, কখনও ১১ হাজার কোটি এবং এর আগে ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার অভিযোগের কথা শোনা গেছে। অভিযোগের অঙ্ক নিয়ে সরকারের মধ্যেই আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দুদককে ব্যবহারের চেষ্টা হতে পারে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময়ের দুর্নীতি নিয়ে দুদকের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

দুদকের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদের পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন, উপসচিব মো. মাসুম আহমেদসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তার নাম এসেছে।

অন্যদিকে, দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে এর আগে আপত্তি জানিয়ে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেছিলেন, দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্যে তার মানহানি হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আইনি নোটিশও দেন তিনি।

তবে দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধান চলছে।


Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: