জাতীয় শুটিং ফেডারেশনের গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে বর্তমান এডহক কমিটি। নতুন নেতৃত্বের দাবি, অভিযোগগুলোর বেশির ভাগই অনুমাননির্ভর এবং সময়ক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই না করেই ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাকিফ শামীমকে জড়িয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) গঠিত বর্তমান এডহক কমিটি দায়িত্ব নিয়েছে ১৮ জুলাই ২০২৬। কমিটির মেয়াদ এখনো দুই মাস পূর্ণ হয়নি। নেতৃত্বের ভাষ্য, কমিটিতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি অনেক নতুন সদস্য রয়েছেন এবং ফেডারেশনের কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হয় না। বোর্ডে আলোচনা ও সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই ফেডারেশনে থাকা সব গোলাবারুদ গণনা করে সিলগালা করে রাখে বলে জানানো হয়েছে। অতীতের ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি বা অনিয়ম থেকে থাকলে তার দায় বর্তমান কমিটির ওপর চাপানো সঠিক নয় বলেও দাবি তাদের। তবে পুরোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার না করে সুষ্ঠু তদন্তে সহযোগিতার কথা জানিয়েছে বর্তমান নেতৃত্ব।
অভিযোগের একটি বড় অংশে বলা হয়েছে, গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্তাধীন কয়েকজনকে বিভিন্ন উপকমিটিতে রেখে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বর্তমান নেতৃত্বের বক্তব্য, উপকমিটিগুলো গঠিত হয়েছিল ১৮ জুলাই বোর্ডের সিদ্ধান্তে, অর্থাৎ গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর আগেই। ফলে তদন্তের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের অভিযোগ সময়ক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তারা মনে করছে।
আরেকটি অভিযোগ হলো, কয়েকজন উপকমিটি সদস্য একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্লাবের প্রতিনিধি। ওই ক্লাবগুলোর গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তাদের উপকমিটিতে রাখাকে নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে নেতৃত্বের ব্যাখ্যা, উপকমিটির সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং কোনো ক্লাবের অস্ত্র-গোলাবারুদের হিসাব সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা এক বিষয় নয়। ক্লাবের হিসাব সংরক্ষণ, উত্তোলন ও ব্যবহারের সঙ্গে কারা সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তা নথিপত্রের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাকিফ শামীমের দায়িত্ব গ্রহণের সময়কাল নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে ফেডারেশন। তাদের মতে, ২০২০ সাল থেকে গোলাবারুদ উত্তোলন ও ব্যবহারের বিষয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, তার বড় অংশের সময় বর্তমান এডহক কমিটি বা সাধারণ সম্পাদক দায়িত্বে ছিলেন না। তাই অতীতের কোনো অনিয়মের দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সময়কাল, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও সরকারি নথিপত্র বিবেচনা করা জরুরি।
সাকিফ শামীম নিজেও অতীতে গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনায় নজরদারির ঘাটতি থাকার কথা স্বীকার করে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ ঘাটতিকে কোনো ব্যক্তির ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করে সমাধান করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
ফেডারেশনের গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনায় প্রকৃত চিত্র জানতে হলে কোন ক্লাব কত গোলাবারুদ নিয়েছে, কী অনুমোদনের ভিত্তিতে নিয়েছে, জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ছিল কি না, স্টক রেজিস্টারে কতটা মজুত ও ব্যবহার দেখানো হয়েছে—এসব নথি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছে বর্তমান নেতৃত্ব।
তাদের মতে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কোনো ব্যক্তি বা কমিটিকে দায়ী করার বদলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। একই সঙ্গে অতীতের অনিয়মের হিসাব যাচাই এবং ভবিষ্যতে গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ফেডারেশনের নতুন নেতৃত্ব।