দুই বছর আগের সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনো টাটকা। ২০২৪ সালের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে হাতছাড়া হয়েছিল এশিয়া কাপের ট্রফি। এবার সেই হিসাব চুকিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে মাঠে নামছে ভারত। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে অপরাজিত দুই দল ভারত ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা।
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ না হেরে ফাইনালে উঠেছে দুই দলই। ফলে শিরোপার লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নেই কারও। তবে ভারতের সামনে বাড়তি প্রেরণা হয়ে থাকছে ২০২৪ সালের ফাইনালের সেই ৮ উইকেটের হার।
দুই বছর আগের ক্ষত মুছতে চায় ভারত
২০২৪ সালের ডাম্বুলার ফাইনালে চামারি আতাপাত্তু ও হর্ষিতা সামারাবিক্রমার জোড়া অর্ধশতকে ভর করে ভারতকে ৮ উইকেটে হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সেই জয়ই ছিল এশিয়া কাপের মঞ্চে ভারতের বিপক্ষে লঙ্কানদের সবচেয়ে স্মরণীয় সাফল্য।
এবার অবশ্য ভিন্ন বাস্তবতা। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ভারতীয় দল টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে ফাইনালে উঠেছে। অষ্টমবারের মতো এশিয়া কাপ ট্রফি ঘরে তুলতে মরিয়া হরমনপ্রীত কৌররা।
ভারতের ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই আলো ছড়াচ্ছেন শেফালি বর্মা ও দীপ্তি শর্মা। ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে তাঁদের পারফরম্যান্স ভারতের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার বড় ভরসা অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ১১ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দলের অন্যতম নির্ভরতার নাম তিনি। শিরোপা ধরে রাখতে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন লঙ্কান অধিনায়ক।
দুবাইয়ের উইকেট ধীরগতির এবং স্পিনারদের জন্য সহায়ক। ফলে শুরুতেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের বদলে উইকেটে থিতু হওয়াই ব্যাটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ভারতীয় অধিনায়কও সতীর্থদের ওপর বাড়তি চাপ না নিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক খেলায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বড় কিছু করার বাড়তি চেষ্টা নয়, নিজেদের শক্তির ওপর আস্থা রাখাই ফাইনালে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের ৩১ দেখায় ভারত জিতেছে ২৫ ম্যাচে। শ্রীলঙ্কার জয় ৫টি, আর একটি ম্যাচের ফল হয়নি। লঙ্কানদের সর্বশেষ জয়টিও এসেছে ২০২৪ সালের এশিয়া কাপ ফাইনালে।
তবে পরিসংখ্যানের চেয়ে বড় হয়ে উঠছে ফাইনালের চাপ ও দুই দলের বর্তমান ফর্ম। একদিকে ট্রফি পুনরুদ্ধারের ক্ষুধার্ত ভারত, অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার আত্মবিশ্বাসী শ্রীলঙ্কা—দুবাইয়ে তাই জমজমাট এক ফাইনালের অপেক্ষা।