ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জামায়াতপন্থি গ্রাহকদের সংগঠন ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার পর রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।
মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী জানান, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে সকালে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেন চাকরিচ্যুতরা। অন্যদিকে সড়কের বিপরীত পাশে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে অবস্থান নেন একদল গ্রাহক। গত মে মাস থেকে ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবিতে কর্মসূচি পালন করে আসছে সংগঠনটি।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে গড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সংঘর্ষের পর চাকরিচ্যুতরা সরে গেলে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন।
চাকরিচ্যুতদের একজন শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, চাকরি ফেরতের দাবিতে আন্দোলন করায় তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তাদের ‘এস আলমের দালাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও তারা কারও পক্ষের নন বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিকের অভিযোগ, পূর্বনির্ধারিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে চাকরিচ্যুতরা হামলা চালান। পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের কয়েকজনকে টেনেহিঁচড়ে নেওয়া হলেও পুলিশ যথাযথ ভূমিকা নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ফোরামের সদস্য সচিব মুতাছিম বিল্লাহসহ প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন নুর নবী মানিক।
এর আগের দিন রোববারও ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে সেখানে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা এলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নেয়। পরে উভয় পক্ষ তাদের দাবি-দাওয়া সংবলিত স্মারকলিপি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা বিভাগের কাছে জমা দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।