
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল অবকাঠামোয় একের পর এক হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে ১০৭ ডলার ৮২ সেন্ট এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১০৩ ডলার ২২ সেন্টে উঠেছে। গত এক সপ্তাহেই দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা পেরিম দ্বীপ ও বাব আল-মান্দাব ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় জ্বালানি পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাব আল-মান্দাব দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪–৫ শতাংশ পরিবহন হয়।
বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয়েও পড়তে পারে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি করেছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা।
ঢাকা চেম্বারের হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের মাসিক আমদানি ব্যয় প্রায় ৭–৮ কোটি ডলার বাড়তে পারে। বছরে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার।
এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে জ্বালানির চাহিদা মেটাতে দেশে আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বরের পর জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দীর্ঘ সময় চড়া থাকলে আমদানি ব্যয়ের পাশাপাশি পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পের খরচেও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা কতদিন স্থায়ী হবে, তার ওপরই এখন অনেকটা নির্ভর করছে বিশ্ববাজারে জ্বালানির পরবর্তী গতিপথ।