
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে রোপা আমনের আবাদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ায় অপেক্ষাকৃত নিচু জমিগুলোও ধীরে ধীরে আবাদের আওতায় আনা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে রোপণ করা রোপা আমনের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে মৃদুমন্দ বাতাসে দুলছে সবুজ ধানের পাতা। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই দেখা মিলছে সবুজের সমারোহ।
এ সময়ে কৃষকেরা ফসলের মাঠে রোপা আমনের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ আগাছা পরিষ্কারে উইডার ব্যবহার করছেন। আবার কেউ প্রয়োজন অনুযায়ী সার, বালাইনাশক ও আগাছানাশক প্রয়োগ করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ৩০০ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের জন্য ৩৭৫ হেক্টর এবং উফশী জাতের জন্য ৭ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এ মৌসুমে বিআর-২২, ব্রিধান-৭৫, ব্রিধান-১০৩, বিনা-৭ ও বিনা-১৭ জাতের ধানের আবাদ তুলনামূলক বেশি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, সময়মতো মৌসুমি বৃষ্টিপাত এবং যথাসময়ে বর্ষার পানি নেমে যাওয়ায় এবার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে কৃষক ফরিদজুল, মঈনউদ্দীন, জনাব আলী, কালা মিয়া ও ফিরোজ মিয়াসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, জমিতে আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও বালাইনাশক ব্যবহারের কাজ চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহাদুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোপা আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এখনো নিম্নাঞ্চলের জমি থেকে পানি নেমে যাওয়ায় সেসব জমিও আবাদের আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বাজার মনিটরিং করছেন।