নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে পুলিশি নিরাপত্তায় জানাজা শেষে ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফন করা হয়েছে শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালকে। ধর্মীয় পরিচয় ও শেষকৃত্য নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার অবসান ঘটে হাইকোর্টের নির্দেশের পর।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বিল্লালের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ইসলামী রীতি মেনে তাকে দাফন করা হয়।
গত ৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরে মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গুলিতে নিহত হন বিল্লাল। তাঁর মৃত্যুর পর মরদেহের শেষকৃত্য নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। বিল্লালের সনাতন ধর্মাবলম্বী বাবা হিন্দু রীতি অনুযায়ী ছেলের সৎকারের দাবি করেন। অন্যদিকে স্ত্রী, মা, ভাই ও বোনের ইসলাম গ্রহণের বিষয় উল্লেখ করে ইসলামী রীতিতে দাফনের দাবি জানানো হয়।
বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। বিল্লালের স্ত্রী জ্যোতি হাইকোর্টে রিট করলে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মুহাম্মদ ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের বেঞ্চ শুনানি শেষে মরদেহটি জ্যোতির কাছে হস্তান্তর এবং শরিয়াহ অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দেন।
নথি অনুযায়ী, ২০০৩ সালের ২৬ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা এফিডেভিটে শুভ চন্দ্র দাস, তাঁর মা পার্বতী রাণী দাস ও ভাই সজীব চন্দ্র দাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর শুভর নাম রাখা হয় মো. বিল্লাল। তিনি মাদ্রাসায়ও পড়াশোনা করেন।
পরে রূপগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের মেয়ে জ্যোতিকে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে করেন বিল্লাল। তাঁদের দুই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
শেষকৃত্য নিয়ে বিরোধের কারণে এতদিন বিল্লালের মরদেহ পুলিশের তত্ত্বাবধানে হিমঘরে রাখা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর মরদেহটি স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর পুলিশি নিরাপত্তায় জানাজা শেষে মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।