সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে বিপুল অর্থের মালিকানা ও প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের মধ্যে সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখা এবং পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদ ও বিনিয়োগ গড়ার বিষয়ও রয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ।
দুদক কর্মকর্তা বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নিয়োগ, বিভিন্ন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়ন, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে বলে জানান তানজির আহমেদ।
দুদকের কাছে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদ ও বিনিয়োগ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সুইস ব্যাংকেও তার অর্থ জমা থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে পাচার করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অর্থপাচার ও বিদেশি সম্পদের অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করবে দুদক।
আসিফ মাহমুদের বাবা, এপিএস ও পিওর বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঘুষ লেনদেনে তদবির এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।
তানজির আহমেদ বলেন, অভিযোগটি যাচাই-বাছাই শেষে চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
দুদকের এই সিদ্ধান্তের ফলে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অনিয়মের অভিযোগ এখন আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে। তবে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।