ফেনীতে পূর্বশত্রুতার জেরে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ, সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করার পর বাদী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী ও তার ভাই সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদের (এসএসপি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নানকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি মামলার সাক্ষীদেরও চাপ ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্যবসায়িক কাজে থাকা অবস্থায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে একদল ব্যক্তি জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা তাকে উদ্ধারে তৎপর হন। একপর্যায়ে তাদের সহযোগিতায় কুদ্দুস চৌধুরীকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
এ ঘটনায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী গত ১০ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। তবে মামলা দায়েরের পর থেকেই তিনি ও তার ভাই আব্দুল মান্নান বিভিন্নভাবে হুমকি ও চাপের মুখে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাদের স্বজন ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক নেতারা।
অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ফেনী সদর উপজেলার আহ্বায়ক নিজাম পাটোয়ারী, দেলোয়ার হোসেন টুকু, মো. সবুজ, ঘটনার পর বহিষ্কৃত কৃষক দল নেতা মো. আমিনুল হকসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করতে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া মামলার সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি, চাপ সৃষ্টি এবং প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাক্ষীরা যাতে নিরপেক্ষভাবে তাদের বক্তব্য দিতে না পারেন এবং মামলার আইনগত প্রক্রিয়া যাতে বাধাগ্রস্ত হয়, সে উদ্দেশ্যেই এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদের (এসএসপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. গোলাম ফারুক মজনু ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু আবিদ।
এক প্রতিবাদ বার্তায় তারা বলেন, একজন সাংবাদিক নেতার ভাইকে অপহরণ, ব্যবসায়িক অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এর পর মামলা দায়ের করায় বাদী ও তার ভাইকে হত্যার হুমকি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং মামলার সাক্ষীদের হয়রানির অভিযোগ আরও উদ্বেগজনক।
তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, সাংবাদিক আব্দুল মান্নান এবং মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে ঘটনায় উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ট্রাব) সভাপতি মো. কাদের মনসুরসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা। তারা বলেন, অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, মামলা করার পর বাদী ও স্বজনদের হুমকি এবং সাক্ষীদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
সংগঠনগুলোর নেতারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
তারা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় যেন আইনের স্বাভাবিক প্রয়োগে বাধা না হয়। একই সঙ্গে অভিযোগের তদন্তে নির্দোষ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে যুবদল ফেনী সদর উপজেলার আহ্বায়ক নিজাম পাটোয়ারী এবং মামলায় অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।