গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কড্ডা, নাওজোড় ও বাইমাইল এলাকায় মহাসড়কের জায়গা ও ফুটপাত ঘেঁষে দীর্ঘদিন ধরে চলছে বালুর ব্যবসা। সড়কের পাশে ও বিভিন্ন অংশে বালুর স্তূপ রেখে ডাম্প ট্রাক ও ট্রাক্টর থেকে বালু ওঠানো-নামানো এবং বিক্রির কারণে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের পাশে বালু রেখে এ ব্যবসা পরিচালনা করছে। দিন-রাত সেখানে বালু আনা-নেওয়া ও লোড-আনলোডের কাজ চলে। এতে মহাসড়কের একটি অংশ সংকুচিত হয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
চালক ও পথচারীদের অভিযোগ, বালু উড়ে এসে চোখ-মুখে পড়ায় অনেক সময় চালকদের দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় সড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়া বালু পিচ্ছিল হয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তোলে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিদিন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের অনেকেই এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। এরপরও মহাসড়কের ওপর বা সড়ক ঘেঁষে এভাবে বালুর ব্যবসা চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
একাধিক যানবাহন চালক বলেন, মহাসড়কের পাশে বালুর স্তূপ ও বালু ওঠানো-নামানোর কারণে সড়কের চলাচলের জায়গা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভারী যানবাহনগুলো হঠাৎ সড়কে ঢোকা-বের হওয়ার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত এসব বালুর স্তূপ সরিয়ে সড়ক দখলমুক্ত করার দাবি জানান তারা।
সচেতন মহলের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে বালু ব্যবসার কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি দ্রুত বন্ধ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জননিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত অভিযান চালিয়ে মহাসড়ক দখলমুক্ত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী দপ্তরে একাধিকবার ফোন করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করা হয়নি। ফলে মহাসড়কের জায়গা ব্যবহার করে বালু ব্যবসার অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।