সীমান্ত পেরোলেই এআইয়ের চোখে ধরা! ইয়াবা ঠেকাতে পুলিশের নতুন কৌশল

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

সারাদেশ

সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ঢোকার পর ইয়াবা কারবারিরা আর সহজে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে পারবে না—এমনই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে পুলিশ।

2026-09-12T18:20:39+00:00
2026-09-12T18:20:39+00:00
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
 
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
সীমান্ত পেরোলেই এআইয়ের চোখে ধরা! ইয়াবা ঠেকাতে পুলিশের নতুন কৌশল
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২০ পিএম 
প্রতীকী ছবি
সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ঢোকার পর ইয়াবা কারবারিরা আর সহজে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে পারবে না—এমনই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে পুলিশ। কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্ত থেকে শহরে ঢোকার গুরুত্বপূর্ণ ১১টি পয়েন্টে বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে এআইভিত্তিক মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা। সঙ্গে থাকবে সিসিটিভি, গাড়ি ও লাগেজ স্ক্যানার এবং মাদক শনাক্তকারী ডগ স্কোয়াড। পুলিশের দাবি, সন্দেহভাজন কেউ আগের নজরদারি এড়িয়ে গেলেও সংরক্ষিত ছবির সঙ্গে মুখ মিলিয়ে তাকে শনাক্ত করতে পারবে এআই ক্যামেরা।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের প্রস্তাব অনুযায়ী, কক্সবাজার ও বান্দরবানের গুরুত্বপূর্ণ ১১টি স্থানে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি স্থাপন করা হবে। এসব চেকপোস্টে থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা, সিসিটিভি, গাড়ি ও লাগেজ স্ক্যানার এবং মাদক শনাক্তকারী ডগ স্কোয়াড।

এ জন্য পুলিশের ৩২১ সদস্য চাওয়া হয়েছে। যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোসহ পুরো প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। গত ২৭ জুলাই পুলিশের সদর দপ্তরে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক মো. নাজিমুল হক জানান, কোনোভাবেই যাতে ইয়াবা দেশের ভেতরে ঢুকতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশির পাশাপাশি প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হবে।

কীভাবে কাজ করবে এআই ক্যামেরা

পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ইয়াবা কারবারি ও তাদের সহযোগীদের ছবি এআই-ভিত্তিক ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হবে। তারা কোনো তল্লাশিচৌকির আওতায় এলে ক্যামেরা তাদের মুখ শনাক্ত করে সতর্ক সংকেত দিতে পারবে।

ক্যামেরার নজর এড়িয়ে গেলে গাড়ি ও লাগেজে লুকিয়ে রাখা মাদক শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হবে ভেহিক্যাল ও লাগেজ স্ক্যানার। এরপরও সন্দেহ থাকলে মাদক শনাক্তকারী ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হবে।

প্রস্তাবিত ১১টি তল্লাশিচৌকিতে মোট ৩১টি এআই-নির্ভর মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা এবং ১৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ছয়টি ভেহিক্যাল স্ক্যানিং মেশিন ও আটটি লাগেজ স্ক্যানার রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সীমান্ত নয়, নজর থাকবে শহরে ঢোকার পথেও

পুলিশের মতে, সীমান্তে মাদক ঢোকার পর পাচারকারীরা পাহাড়ি পথ, পুরোনো সড়ক ও বিকল্প রুট ব্যবহার করে। তাই শুধু সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা পাচার বন্ধ করা কঠিন।

এ কারণে কক্সবাজারের রামু, সদর, উখিয়া ও চকরিয়ার সাতটি এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থায়ী চেকপোস্ট বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে রামুর রাংকুট বৌদ্ধবিহার ও পনেরো ছড়া ফরেস্ট অফিস, কক্সবাজারের ভাঙ্গার মোড়, চৌফলদণ্ডী লোহার সেতু ও রেলস্টেশন, উখিয়ার কোর্ট বাজার সড়ক এবং চকরিয়ার হারবাং সড়ক। নাইক্ষ্যংছড়িতে রয়েছে বেইলি সেতু, সোনাইছড়ি চৌরাস্তার মোড়, বাইশারী পেটান আলীপাড়া মোড় ও রামুর গর্জনিয়া ডাকবাংলো মোড়।

সবচেয়ে বড় নজরদারি ভাঙ্গার মোড়ে

প্রস্তাবিত ১১টি চেকপোস্টের মধ্যে কক্সবাজারের ভাঙ্গার মোড়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। মেরিন ড্রাইভের শেষ প্রান্তের এ এলাকায় কক্সবাজার শহর ও পর্যটন এলাকায় ইয়াবা প্রবেশ ঠেকাতে বড় ধরনের নজরদারিবলয় তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এখানে ৪২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রস্তাব করা হয়েছে। থাকবে একটি ডগ স্কোয়াড, একটি লাগেজ স্ক্যানার, একটি ভেহিক্যাল স্ক্যানার, তিনটি এআইভিত্তিক মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা ও ১৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা।

কেন এত বড় উদ্যোগ

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বিজিবি ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৪৫টি ইয়াবা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ৮১১টি ইয়াবা জব্দ করেছে। বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দের পরও পাচার পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় সীমান্ত থেকে দেশের ভেতরে প্রবেশের পথগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদী, সমুদ্রপথ ও সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা বাংলাদেশে ঢোকে। উখিয়া, টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্ত এলাকাকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী মনে করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যেমন দরকার, তেমনি পাচারের রুট বন্ধ করাও জরুরি। সীমান্ত, পাহাড়ি পথ, বিকল্প সড়ক ও শহরে প্রবেশের পয়েন্টে সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের পাঠানো প্রস্তাবের অগ্রগতির বিষয়ে পুলিশের সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রস্তাবটি কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত পেরিয়ে ইয়াবা প্রবেশের পর শহর ও দেশের অন্যান্য এলাকায় পৌঁছানোর আগেই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে চালান শনাক্ত ও আটকের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে পুলিশ।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: