এক সন্তানকে হারানোর শোকের মধ্যেই নতুন প্রাণের আগমনে ঘুরে দাঁড়াল এক গ্রিক দম্পতির পরিবার। ২২ বছর ধরে হিমায়িত অবস্থায় সংরক্ষিত একটি ভ্রূণ থেকে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন ৫৪ বছর বয়সী ক্রিস্টিনা রাপ্তি-তজেলেপি। আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) প্রযুক্তির মাধ্যমে এ সন্তানের জন্ম হয়।
গত বছরের একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে জর্জোসকে হারান ক্রিস্টিনা ও তার ৬০ বছর বয়সী স্বামী কনস্টান্টিনোস। সন্তানের মৃত্যুর পর গভীর শোকে ভেঙে পড়া এই দম্পতি ফের পরিবারে নতুন প্রাণ আনার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত থেকেই ২২ বছর আগে সংরক্ষণ করে রাখা ভ্রূণ ব্যবহারের উদ্যোগ নেন তারা।
গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের একটি হাসপাতালে জন্ম নেয় তাদের কন্যাসন্তান। নবজাতকের ওজন ৩ দশমিক ৪৯ কেজি। প্রয়াত ছেলের স্মৃতিকে ধরে রাখতে মেয়ের নাম রাখা হয়েছে ‘জর্জিয়া’। মজার বিষয় হলো, জর্জোসও আইভিএফ পদ্ধতিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
তবে বয়সের কারণে প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। গ্রিসের আইন অনুযায়ী আইভিএফের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৪ বছর। ফলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় ক্রিস্টিনাকে। আইনি জটিলতার পাশাপাশি মাত্র আড়াই মাসের তীব্র মানসিক চাপও সামলাতে হয়েছে এই দম্পতিকে।
চিকিৎসকদের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষার অবসান হয়। দীর্ঘ ২২ বছর হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকেই পৃথিবীর আলো দেখে তাদের কন্যা জর্জিয়া।
ক্রিস্টিনা বলেন, “আমি এবং আমার স্বামী নতুন করে শুরু করতে চেয়েছি। আমাদের ঘরে নতুন প্রাণ আনতে চেয়েছি এবং পরিবারের গল্পটা এগিয়ে নিতে চেয়েছি।”
স্বামী কনস্টান্টিনোস বলেন, চিকিৎসকরা তাদের পরিবারে আবার আশার আলো ফিরিয়ে দিয়েছেন। দেশটিতে জন্মহার কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে আইভিএফের বয়সসীমা পুনর্বিবেচনার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে এই ঘটনার পর গ্রিসে আইভিএফ-সংক্রান্ত বয়সসীমা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
হিমায়িত ভ্রূণ থেকে সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে দীর্ঘতম সময়ের রেকর্ড অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই ওহাইওর এক দম্পতি প্রায় ৩১ বছর হিমায়িত অবস্থায় থাকা একটি ভ্রূণ থেকে সন্তানের জন্ম দেন। ওই শিশুকে বিশ্বের সবচেয়ে ‘বয়স্ক’ শিশু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র: এবিসি নিউজ