২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর বদলে যায় বৈশ্বিক রাজনীতির গতিপথ। আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে হামলা চালায়। প্রাণ হারান প্রায় তিন হাজার মানুষ।
এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শুরু হয় তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’। আফগানিস্তান থেকে ইরাক, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আফ্রিকা—বছরের পর বছর ধরে চলা সামরিক অভিযান শুধু ভূরাজনীতিই পাল্টায়নি, রেখে গেছে বিপুল প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকটের দীর্ঘ ছাপ।
ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউটের ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, ২০০১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যক্ষ সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন আনুমানিক ৯ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। যুদ্ধের কারণে রোগ, অপুষ্টি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিপর্যয়ে মারা গেছেন আরও প্রায় ৩৬ থেকে ৩৮ লাখ মানুষ।
আফগানিস্তান: দুই দশকের যুদ্ধে বিপুল প্রাণহানি : ৯/১১ হামলার এক মাসও পূর্ণ হয়নি, এর মধ্যেই ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ‘অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডম’ নামে শুরু হওয়া সেই যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত প্রায় দুই দশক স্থায়ী হয়।
প্রথমদিকে তালেবান সরকারের পতন ঘটলেও আফগানিস্তানে সংঘাত থামেনি। যুক্তরাষ্ট্রের চার প্রেসিডেন্টের আমল পেরিয়ে ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। একই বছর তালেবান আবারও দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
কস্টস অব ওয়ারের হিসাব বলছে, আফগানিস্তানে যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবে প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধের বাইরের নানা প্রভাব—খাদ্যসংকট, রোগ এবং চিকিৎসাসেবার ঘাটতি—আরও বহু মানুষের জীবন কেড়ে নেয়।
যুদ্ধের আগে দেশটির প্রায় ৬২ শতাংশ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকলেও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ও ল্যান্ডমাইনও এখনো আফগান বেসামরিকদের জন্য বড় হুমকি।
ইরাক: আগ্রাসনের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত : ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। গণবিধ্বংসী