ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধরে রাখার সক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তীকালীন সম্মেলনের সমাপনী দিনে ডালাসে দেওয়া তার বক্তব্যে উঠে আসে ট্রাম্পের মতোই কঠোর অভিবাসনবিরোধী অবস্থান, ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কড়া ভাষায় জবাব দেওয়ার বার্তা।
ভ্যান্সের ভাষণজুড়ে ছিল রিপাবলিকানদের প্রচলিত নানা ক্ষোভ ও অভিযোগের প্রতিফলন। একই সঙ্গে নিজের প্রশাসনের সাফল্যের কথাও জোরালোভাবে তুলে ধরেন তিনি। ডেমোক্র্যাটদের আক্রমণ করতে গিয়ে তাদের ‘উন্মাদ’ বলে মন্তব্য করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
সম্মেলনে ভ্যান্স মঞ্চে উঠতেই সমর্থকদের কাছ থেকে আসে উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া। পুরো দুই দিনের আয়োজনজুড়ে ট্রাম্প ছাড়া অন্য কোনো নেতার জন্য এমন প্রাণবন্ত সাড়া খুব একটা দেখা যায়নি। হলজুড়ে ‘জেডি, জেডি’ স্লোগান ওঠে। এমনকি উপস্থিত কিছু সমর্থক ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাকে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী করার দাবিও জানান।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাষারই প্রতিধ্বনি : ভ্যান্সের বক্তব্যে অভিবাসন ইস্যু বিশেষ গুরুত্ব পায়। ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় অভিবাসনকে সামনে রেখে তিনি দাবি করেন, দেশের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেই তাদের ‘বর্ণবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
রিপাবলিকান সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দুই বছর আগেও যখন তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ‘নোংরা, দরিদ্র ও অনিরাপদ’ হয়ে পড়ার বিষয়ে কথা বলতেন, তখন তাদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।
এই বক্তব্যে সম্মেলনে উপস্থিত ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা MAGA সমর্থকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়।
বিক্ষোভকারীর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় : তবে ভ্যান্সের ভাষণের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে এক বিক্ষোভকারীকে ঘিরে। তার বক্তব্যের মধ্যে ওই ব্যক্তি সাময়িকভাবে বাধা সৃষ্টি করেন। ভ্যান্স দাবি করেন, বিক্ষোভকারীর হাতে ছিল মেক্সিকোর পতাকা।
এরপর মঞ্চ থেকেই তাকে কড়া ভাষায় জবাব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। ভ্যান্স বলেন, মেক্সিকোকে যদি ওই ব্যক্তি এতটাই পছন্দ করেন, তাহলে তার সেখানে চলে যাওয়া উচিত; এমনকি সেখানে যাওয়ার বিমানভাড়ার অর্থ নিজে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ভ্যান্সের এই মন্তব্যে হলভর্তি সমর্থকদের কাছ থেকে জোরালো উল্লাস ও করতালি আসে।
২০২৮-এর জন্য প্রস্তুতি?
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে ভ্যান্সের অবস্থান তাকে রিপাবলিকান রাজনীতির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের অন্যতম আলোচিত মুখে পরিণত করেছে। সম্মেলনে সমর্থকদের একাংশের ২০২৮ সালের নির্বাচনে তাকে সামনে আনার আহ্বানও সেই সম্ভাবনাকে আরও দৃশ্যমান করেছে।
বক্তৃতায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক সুর, আক্রমণাত্মক বক্তব্যের ধরন এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ঘরানার বার্তার সঙ্গে ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠতা স্পষ্ট হয়েছে। ফলে ট্রাম্প-পরবর্তী রিপাবলিকান নেতৃত্বে ভ্যান্স নিজেকে কতটা প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলে ৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান সম্পর্কেও ট্রাম্পের বিতর্কিত দাবির পুনরাবৃত্তি করেন ভ্যান্স। তার এই বক্তব্যও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সব মিলিয়ে ডালাসের এই ভাষণ শুধু একটি সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্য ছিল না; বরং ট্রাম্প-পরবর্তী রিপাবলিকান রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরির জন্য ভ্যান্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।