
আইআরজিসির দেওয়া বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলসংলগ্ন এলাকায় দুটি চালকবিহীন মার্কিন সামরিক নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব নৌযান মার্কিন বাহিনীর সামুদ্রিক ড্রোন হয়ে থাকতে পারে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ সময় সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে ওই এলাকায় দুটি মার্কিন নৌযানে অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এতে একটি নৌযানে আগুন লাগার কথা জানা গেছে। তবে অপর নৌযানটির পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে, সেখান থেকে ওমানের মুসান্দাম প্রদেশের রাজধানী আল খাসাবের উপকূলের দূরত্ব প্রায় ৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার।
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবহন করা হয়। ফলে এই এলাকায় সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নৌ চলাচলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বিদেশি জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা পদক্ষেপের পর এ জলপথে বাণিজ্যিক নৌ চলাচলও ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছিল আইআরজিসি। পরবর্তী সময়েও সেখানে মার্কিন সামরিক নৌযান লক্ষ্য করে হামলার দাবি আসে।
তবে সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সূত্র: আলজাজিরা