ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ ছিটিয়ে বা মশক নিধন নয়, এবার মশার প্রজননস্থল ধ্বংসকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ১০টি অঞ্চলের ৫৪টি ওয়ার্ডে শুরু হয়েছে বিশেষ সোর্স রিডাকশন কার্যক্রম। এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে জমে থাকা পানি অপসারণ, উৎস ধ্বংস ও লার্ভা নিধনের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে মাঠে নেমেছেন ডিএনসিসির প্রায় ১ হাজার ৫০০ সদস্য।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর ডিএনসিসির স্থাপিত স্টল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্টল পরিদর্শনকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইমরুল কায়েস প্রধানমন্ত্রীকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএনসিসির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ব্যবহৃত কার্যকরী উপকরণ সম্পর্কে অবহিত করেন।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরজুড়ে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমে ২৪টি দলে বিভক্ত হয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ১ হাজার ৫০০ সদস্য অংশ নিচ্ছেন। তারা ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলের ৫৪টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন, এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ, সোর্স রিডাকশন এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ কর্মসূচি। এর আওতায় অঞ্চল-৫, বিশেষ করে জাতীয় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ সোর্স রিডাকশন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং লার্ভানিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ ছাড়া ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলের ৫৪টি ওয়ার্ডেই জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবসের কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমে চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল এবং পূর্বে শনাক্ত ডেঙ্গু হটস্পটগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশক নিধনের ওপর নির্ভর না করে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী লার্ভিসাইড প্রয়োগের মাধ্যমে সোর্স রিডাকশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়া এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।