দিল্লি সফরে শুধু বৈঠক নয়, অর্জন নিয়ে ফিরতে চান তারেক রহমান

ভোরের ডাক ডেস্ক

জাতীয়

যত দ্রুত সম্ভব ভারত সফরে যেতে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে দিল্লি সফরের আগে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার জন্য একটি

2026-09-10T17:55:17+00:00
2026-09-10T17:55:17+00:00
  বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
দিল্লি সফরে শুধু বৈঠক নয়, অর্জন নিয়ে ফিরতে চান তারেক রহমান
ভোরের ডাক ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
যত দ্রুত সম্ভব ভারত সফরে যেতে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে দিল্লি সফরের আগে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা চূড়ান্ত করতে চান তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বাংলাদেশের একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে জনগণের সামনে তুলে ধরার মতো দৃশ্যমান অর্জন কী থাকবে—এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কারণে সফরের আগে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিবিড় আলোচনা করে আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে ঢাকা।

কূটনৈতিক সূত্রটি জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি যেতে পারেন তারেক রহমান। এর অন্যতম কারণ হলো, আগামী ডিসেম্বরেই ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চুক্তিটি নবায়ন করতে চায় বাংলাদেশ।

সূত্রের দাবি, ভারতীয় পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহুপক্ষীয় ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি সেখানে যাননি। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ঢাকা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এড়িয়ে চলতে চায়। বরং মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও ত্যাগকে বাংলাদেশ সবসময় স্বীকার করে এবং প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়।

বাংলাদেশ মনে করে, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কার্যকর থাকা গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হতে পারে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের যেসব বিষয় বর্তমানে আটকে আছে, সেগুলোতেও অগ্রগতি চায় ঢাকা।

এর মধ্যে রয়েছে পূর্ণাঙ্গভাবে ভিসা কার্যক্রম চালু করা, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আরোপিত বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, স্থলবন্দর দিয়ে স্বাভাবিক বাণিজ্য পুনরায় চালু এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া।

এ ছাড়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতের সহযোগিতাকেও ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, ভারত এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা করলে তা দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক মতবিরোধের মতো ‘কঠিন রাজনৈতিক প্রশ্ন’ থেকে বাণিজ্য ও কনস্যুলার সেবার বিষয়গুলো আলাদা রাখতে আগ্রহী ঢাকা।

বাংলাদেশের ওই কর্মকর্তা গঙ্গা চুক্তিকে দ্বিপক্ষীয় কূটনীতির একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন, বছরের শেষ হওয়ার আগে চুক্তিটি নবায়ন করা না গেলে দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চুক্তি নবায়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে এর বিরোধিতাকারীরা আরও সক্রিয় হতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বিশেষ করে ভারতের বিহারের কিছু নেতা ইতোমধ্যে গঙ্গা চুক্তির বিরোধিতা করছেন এবং তাদের দাবি, চুক্তিটি বিহারের স্বার্থ রক্ষা করছে না।

কূটনৈতিক সূত্রটি আরও জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সরাসরি সংলাপে বসতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ইতোমধ্যে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বাংলাদেশের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

তবে প্রধানমন্ত্রীর সফরের এজেন্ডা তৈরিতে আমলা পর্যায়ের আলোচনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ঢাকা। এ জন্য দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা দ্রুত শুরু করে সফরের আগে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনায় খোলা মন নিয়ে এগোনোর প্রস্তুতি রয়েছে। কিছু বিষয়ে ছাড় দেওয়ার সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যও অর্জন করতে চায় ঢাকা।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার করা অভিযোগকে দিল্লির যৌক্তিক হিসেবে দেখা উচিত নয়। কারণ তারেক রহমান একজন নির্বাচিত নেতা—এ বিষয়টি ভারতের বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন বলে মনে করে ঢাকা।

এদিকে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ভারতে একটি সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ আটকে দেওয়ার খবরে বাংলাদেশ সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে ওই কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। ঢাকার মতে, এটি ভারতের পক্ষ থেকে একটি গঠনমূলক বার্তা।

এ প্রসঙ্গে ২০১৮ সালের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন ওই কর্মকর্তা। সে সময় বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী লর্ড আলেকজান্ডার কার্লাইলের। তবে ভারত তখন তাকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য তারেক রহমানের ভারত সফরকে শুধু আনুষ্ঠানিক সফর হিসেবে না দেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনের সুযোগ হিসেবে দেখছে ঢাকা। সফরের আগে এজেন্ডা চূড়ান্ত করতে পারলেই দিল্লি থেকে উল্লেখযোগ্য অর্জন নিয়ে ফেরার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: