রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কূটনৈতিক তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বিত উদ্যোগেই দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীন ও মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই পরিষ্কার। মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই নিরাপদ পরিবেশে, মর্যাদা বজায় রেখে এবং স্থায়ীভাবে নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য।
এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, আঞ্চলিক শক্তি এবং সহযোগী দেশগুলোর আরও সক্রিয় ও সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু মানবিক সহায়তা দিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয়। প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের পথও খুঁজে বের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে নিয়মিত আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি।