যশোরের শার্শায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে তিন লাখ টাকা নেওয়ার পর তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে আসাদুজ্জামান আসাদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার আসাননগর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি এ মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আসাদুজ্জামান আসাদ চার লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বৈধ ভিসায় জাহাঙ্গীরকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে ভালো বেতনের চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলেন। এতে আগ্রহী হয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ২০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করেন জাহাঙ্গীর। এ সময় প্রথম ধাপে তিনি আসাদকে তিন লাখ টাকা দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ১ এপ্রিল মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল জাহাঙ্গীরের। ফ্লাইটের দিন বাকি এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। আর নির্ধারিত সময়ে তাকে মালয়েশিয়ায় পাঠাতে ব্যর্থ হলে ১ মে’র মধ্যে তিন লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার শর্ত ছিল।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় পাঠাতে না পারায় জাহাঙ্গীর তার দেওয়া তিন লাখ টাকা ফেরত চান। অভিযোগ, আসাদ টাকা ফেরত না দিয়ে নানা ধরনের তালবাহানা করতে থাকেন।
পরে আইনি প্রতিকার চেয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন ঝিনাইদহের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও শৈলকুপা আমলি আদালতে মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার নথিতে আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আম ব্যবসায়ী আবু সিদ্দিকের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া আঞ্জুয়ারা খাতুন নামে এক নারী পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে মারধর ও জখম করার অভিযোগ করেন। পরে তিনি আদালতে মামলা করলে আসাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ওই মামলায় তিনি জামিনে আছেন।
শরিফুল ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তি তার ছেলেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর জন্য আসাদকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার পর বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থতার অভিযোগে যশোর আদালতে মামলা করেন বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া শার্শার বাগআঁচড়া বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী জামাল বাবুর্চির কাছে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগের কথাও মামলার নথিতে রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসাদুজ্জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নতুন মামলার অভিযোগের সত্যতা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তি রয়েছেন কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ বিষয়।