নওগাঁ শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত অনিয়ম এবং চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ অভিযান চলে।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মো. রাশেদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নওগাঁ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হোসাইন, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক শাহ মো. রাশেদ জানান, নওগাঁ সদর উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত অনিয়ম বন্ধ এবং চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারি বিধিবিধান প্রতিপালন নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে নিউ ন্যাশনাল ক্লিনিক এবং স্কয়ার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায়। এর মধ্যে ছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজি স্বাস্থ্য) লাইসেন্স নবায়ন না করা, দৃশ্যমান স্থানে পরীক্ষার মূল্য তালিকা না রাখা, চিকিৎসাসংক্রান্ত রেজিস্টার যথাযথভাবে হালনাগাদ না করা এবং সাধারণ ও বিপজ্জনক চিকিৎসা বর্জ্য নির্ধারিত কালার কোড অনুযায়ী পৃথক বিনে সংরক্ষণ না করা।
এসব অনিয়মের কারণে দুইটি বেসরকারি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হয়। মামলাগুলোতে মোট ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া ও আদায় করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে জুলাই ও আগস্ট মাসে একই আইন ও বিধিমালার আওতায় সদর উপজেলায় আরও ছয়টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১২টি মামলায় ১০টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে মোট ৭৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া ও আদায় করা হয়।
বুধবারের অভিযানসহ গত জুলাই থেকে পরিচালিত মোট সাতটি মোবাইল কোর্ট অভিযানে ১৬টি মামলায় ১২টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় সর্বমোট ১ লাখ ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।
শাহ মো. রাশেদ বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে প্রতিপালন, রোগীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পরিবেশসম্মতভাবে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।