বরগুনার আমতলীতে মাদকবিরোধী অভিযানে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাজমুল হাওলাদার এবং মো. হুমায়ুন কবিরকে ২২ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে হুমায়ুন কবিরকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর আসামি নাজমুল হাওলাদারকে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমতলী থানা পুলিশ হাসপাতাল সড়কে হুমায়ুন কবিরের বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় নাজমুল হাওলাদার ও হুমায়ুন কবিরকে আটক করা হয়। পরে হুমায়ুনের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ২২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে পুলিশ তাদের আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে।
আদালতের বিচারক মো. ইফতি হাসান ইমরান সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে হুমায়ুন কবিরকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন। অপর আসামি নাজমুল হাওলাদারের বিষয়ে আগামী রোববার শুনানির দিন ধার্য করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। পরে আদালতের নির্দেশে ওই রাতেই তাদের বরগুনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
নাজমুল হাওলাদার প্রয়াত চিকিৎসক ডা. খালেক নিজামের ছেলে বলে জানা গেছে। তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নাজমুলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক সেবনের অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ২২ পিস ইয়াবাসহ হুমায়ুন কবির ও নাজমুল নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হুমায়ুন কবিরকে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অপর আসামি নাজমুলকে আগামী রোববার শুনানির দিন ধার্য করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী যতই প্রভাবশালী হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।