শিবচরে জেলে পরিচয়ে সুবিধা নিচ্ছেন ভিন্ন পেশার মানুষ

শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা

সারাদেশ

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নদীবেষ্টিত এলাকায় প্রকৃত জেলেরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হলেও জেলে পরিচয়ে নানা সুবিধা নিচ্ছেন ভিন্ন পেশার মানুষ।

2026-09-10T15:44:16+00:00
2026-09-10T15:44:16+00:00
  বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
শিবচরে জেলে পরিচয়ে সুবিধা নিচ্ছেন ভিন্ন পেশার মানুষ
শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নদীবেষ্টিত এলাকায় প্রকৃত জেলেরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হলেও জেলে পরিচয়ে নানা সুবিধা নিচ্ছেন ভিন্ন পেশার মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের অনেকে জেলে না হয়েও সরকারি তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে জেলে কার্ড পেয়েছেন। ফলে প্রকৃত জেলেদের একটি বড় অংশ তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিবচরে বর্তমানে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৬ হাজার ৫৪২ জন। এর মধ্যে শিবচর পৌরসভায় ২৯৯ জন, বন্দরখোলা ইউনিয়নে ৬৭২, সন্ন্যাসীরচরে ১৭০, বহেরাতলা দক্ষিণে ৩৪৫, চরজানাজাতে ৯৫১, কাঁঠালবাড়িতে ৪২১, মাদবরের চরে ২৮৭, বহেরাতলা উত্তরে ৮৯, ভান্ডারীকান্দিতে ২২০, বাঁশকান্দিতে ৫৬৪, নিলখীতে ৪৮৮, শিরুয়াইলে ৩৫৩, দত্তপাড়ায় ৪৩২, কাদিরপুরে ২৮৫, কুতুবপুরে ১৯৬, পাঁচ্চরে ১৫৪, দ্বিতীয়খণ্ডে ১৬৩, উমেদপুরে ১৬৬ এবং ভদ্রাসনে ২৭৬ জনকে জেলে হিসেবে নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে।

প্রতি বছর জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে উপজেলা মৎস্য অফিস জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করে। এ জন্য উপজেলা পর্যায়ে একটি কমিটিও রয়েছে। তবে মৎস্য অফিসের দাবি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তালিকার ভিত্তিতেই অতীতে জেলেদের নিবন্ধন করা হয়েছে। এবার তালিকা পুনরায় যাচাই ও হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পদ্মাপাড়ের চরজানাজাত ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের কয়েকজন প্রকৃত জেলে জানান, তাদের পরিবার কয়েক পুরুষ ধরে নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করছে। অথচ তাদের নিজেদের বা পরিবারের সদস্যদের কারও জেলে কার্ড নেই। ফলে তারা জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অন্যদিকে, মাছ শিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, ভ্যানচালক এমনকি স্বচ্ছল ব্যক্তিদেরও জেলে তালিকায় নাম রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় জেলেদের।

সরেজমিনে চরজানাজাত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এমন কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া গেছে, যারা জেলে হিসেবে তালিকাভুক্ত হলেও নিয়মিত মাছ শিকার করেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, আয়নাল খা, ইলিয়াস বেপারী, বাচ্চু মোড়লসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক ব্যক্তি জেলে তালিকায় থাকলেও তারা পেশাদার মৎস্যজীবী নন। একই এলাকার আয়না খা ও মালেক ফকিরসহ কয়েকজনের বাড়িতে গিয়ে তাদের কৃষিকাজ করতে দেখা গেছে। তারাও নিয়মিত জেলে হিসেবে বরাদ্দ খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

এদিকে পদ্মা নদীতে মাছ শিকারের সময় চরজানাজাত ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খোকন হাওলাদার ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বজলু খার সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, কয়েক পুরুষ ধরে তাদের পরিবার পদ্মায় মাছ শিকার করে আসছে। কিন্তু তাদের কারও জেলে কার্ড নেই এবং কোনো সরকারি সহায়তাও পান না।

তাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান-মেম্বারদের ঘনিষ্ঠজন না হলে জেলে তালিকায় নাম ওঠানো কঠিন। অনেক প্রকৃত জেলে সারা বছর নদীতে থাকায় কখন তালিকা তৈরি বা হালনাগাদ হয়, সেটিও জানতে পারেন না। ফলে তারা তালিকার বাইরে থেকে যান।

স্থানীয় জেলেদের আরও অভিযোগ, ভুয়া জেলেদের কারণে সরকারি খাদ্য সহায়তা বিতরণেও নানা অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়। প্রকৃত জেলেরা আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় তদবির বা প্রভাব খাটাতে না পারলেও ভিন্ন পেশার অনেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।

শিবচরের জেলেদের তালিকা নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, অতীতে শিবচরে জেলেদের সঠিক তালিকা তৈরি করা হয়নি। জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় বিভিন্ন পেশার মানুষ ও স্বচ্ছল ব্যক্তিরাও জেলে হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, জেলে তালিকায় কোনো অপ্রকৃত জেলের নাম থাকলে এবং তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে নাম বাদ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইলিশ আহরণ ও মৎস্য পেশার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত প্রকৃত জেলেদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন, ‘জাল যার, তিনিই প্রকৃত জেলে। এর বাইরে অন্য কোনো পেশার ব্যক্তির জেলে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই।’ মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে তালিকা পুনঃযাচাই করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রকৃত জেলেদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এবং


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: