পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সরকারি কাউখালী কে জি (গান্ডতা) ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষকসংকটে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অবস্থান করলেও দিনে দুই-একটির বেশি ক্লাস হচ্ছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমছে। পাশাপাশি অনেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা এ শিক্ষকসংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মাদক, জুয়া ও ইভটিজিংসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।
শিক্ষকসংকট নিরসনের দাবিতে গত ২৩ জুন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা মানববন্ধন করেন। তবে প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নতুন কোনো শিক্ষক পদায়ন করা হয়নি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, একসময় বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বদলি হয়ে ঢাকায় চলে যাওয়ার পর শিক্ষকসংখ্যা আরও কমে যায়। বর্তমানে মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান করেও তারা নিয়মিত ক্লাস পাচ্ছে না। প্রতিদিন অন্তত ছয়টি ক্লাসে শিক্ষক উপস্থিত থাকার দাবি জানিয়ে তারা বলছে, শিক্ষকের অভাবে তাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দায় কে নেবে। তারা নকলের বিরুদ্ধে এবং মানসম্মত শিক্ষার পক্ষে বলেও জানায়।
অভিভাবক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম ও কাজী মহিউদ্দিন বলেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক নেতারা শিক্ষকসংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো নতুন শিক্ষক যোগদান করেননি। বরং শিক্ষকসংখ্যা কমে বর্তমানে চারজনে দাঁড়িয়েছে।
তারা দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের পাশাপাশি বিষয়টি সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আরেক অভিভাবক এনামুল হক বলেন, বিদ্যালয়ে ১৭টি শিক্ষকের পদ থাকলেও প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে। এতে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারি হওয়ার আগে এ বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী ডাক্তার, প্রকৌশলী, সেনা কর্মকর্তা ও উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে দেশসেবায় অবদান রেখেছেন। অথচ বর্তমানে শিক্ষকসংকটের কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়া এবং অপরাধপ্রবণতায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন হালদার বলেন, ২২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র চারজন দিয়ে পুরো বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) বরিশাল অঞ্চলের উপপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, ‘মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে একটি সরকারি বিদ্যালয় পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টকর। আমরা বিষয়টি অনুধাবন করছি। দ্রুত শিক্ষক পদায়নের জন্য আজ আবারও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।’