রাজধানীর কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টিউশন ফি নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে মাসিক বেতন কমানোর দাবি জানিয়েছে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। একই সঙ্গে ‘শিক্ষার্থীর টিউশন ফি নীতিমালা ২০২৪’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যাংকার মো. সেলিম মিয়া।
বিবৃতিতে বলা হয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো এমনিতেই চাপে রয়েছে। এর সঙ্গে শিক্ষা উপকরণসহ পড়াশোনার অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় সন্তানদের শিক্ষাব্যয় বহন করা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
অভিভাবক ঐক্য ফোরামের নেতারা জানান, অভিভাবকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘শিক্ষার্থীর টিউশন ফি নীতিমালা ২০২৪’ জারি করা হয়। ওই নীতিমালায় অভিভাবকদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে গ্রাম, শহর ও রাজধানীর জন্য পৃথক টিউশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, নীতিমালা অনুযায়ী রাজধানীর স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখায় মাসিক টিউশন ফি ৮০০ টাকা এবং কলেজ শাখায় ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে রাজধানীর কয়েকটি নামকরা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ হার অনুসরণ করা হচ্ছে না।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখায় বাংলা মাধ্যমে মাসিক ১ হাজার ৪৫০ টাকা এবং কলেজ শাখায় ২ হাজার ২০০ টাকা টিউশন ফি নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাসিক ২ হাজার ৩০০ টাকা টিউশন ফি আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
অভিভাবক ঐক্য ফোরাম বলছে, এসব বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সংগঠনটির নেতারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা নীতিমালা দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্ধারিত হারে টিউশন ফি আদায়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও সেখানে সরকারি টিউশন ফি নীতিমালা বাস্তবায়ন না হওয়া দুঃখজনক।