প্রচলিত সবুজ তরমুজের ভিড়ে হলুদ রঙের তরমুজ চাষ করে তাক লাগিয়েছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার তরুণ কৃষক মো. হাবিবুর রহমান। অফ-সিজনে ‘রঙ্গিলা’ জাতের হলুদ তরমুজ চাষ করে এরই মধ্যে সাড়া ফেলেছেন তিনি। ব্যতিক্রমী এই তরমুজে ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারদরও আশাব্যঞ্জক হওয়ায় লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক হাবিবুর।
বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকী গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে রঙ্গিলা জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ও নিয়মিত পরিচর্যায় তার খেতে এখন সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে সারি সারি উজ্জ্বল হলুদ তরমুজ।
সরেজমিনে দেখা যায়, খেতের আকর্ষণীয় রঙ ও বড় আকারের তরমুজ পথচারী ও দর্শনার্থীদের সহজেই নজর কাড়ছে। শুধু স্থানীয়রাই নন, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও কৃষক ও আগ্রহী দর্শনার্থীরা হাবিবুরের খেত দেখতে আসছেন। তারা নতুন জাতের তরমুজের বীজ নির্বাচন, চাষাবাদ, পরিচর্যা ও বাজারজাতকরণ সম্পর্কে তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন।
কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, রঙ্গিলা জাতের হলুদ তরমুজ দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমনি সুস্বাদু, রসালো ও মিষ্টি। প্রতি শতক জমিতে এ জাতের তরমুজ চাষে প্রায় ১ গ্রাম বীজ প্রয়োজন হয়। সঠিকভাবে পরিচর্যা করা গেলে প্রতি একরে ৩০ থেকে ৩৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ প্রায় ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো বাজারদর থাকায় এবার আশানুরূপ লাভের আশা করছেন তিনি।
হাবিবুর আরও বলেন, নতুন জাতের এ তরমুজ চাষে স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা গেলে বীরগঞ্জসহ এ অঞ্চলে রঙ্গিলা জাতের তরমুজের চাষ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
স্থানীয় কৃষকরাও বলছেন, সাধারণ তরমুজের তুলনায় হলুদ রঙের এই জাতটি দেখতে অনেক বেশি আকর্ষণীয়। পাশাপাশি স্বাদ ও বাজারদর ভালো হওয়ায় তারাও ভবিষ্যতে এ জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভোগনগর ও মরিচা ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে অফ-সিজনে রঙ্গিলা জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। তাদের মধ্যে হাবিবুর রহমানের খেতে ফলন, ফলের গুণগত মান, রঙ ও স্বাদ ভালো হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন এই জাতের তরমুজ ইতোমধ্যে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন ও কৃষির বহুমুখীকরণের বর্তমান সময়ে উচ্চমূল্যের এবং লাভজনক ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। হলুদ রঙের এই তরমুজ ভবিষ্যতে বীরগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হয়ে উঠতে পারে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচলিত ফসলের বাইরে নতুন ও লাভজনক জাতের চাষ কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিতে বৈচিত্র্য আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বীরগঞ্জের তরুণ কৃষক হাবিবুর রহমানের হলুদ তরমুজ চাষ সেই সম্ভাবনারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।