বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নে ঘরের টিনের বেড়া খুলে প্রবেশ করে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ সময় গৃহবধূর এক বছর বয়সী শিশুসন্তানকে জিম্মি করে ভয় দেখানো এবং পরে ঘরে থাকা নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মো. আফাজ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বরগুনা সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত আফাজ সদর উপজেলার সিংড়াবুনিয়া এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত নুর মোহাম্মদ হাওলাদারের ছেলে। এজাহারে তাকে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিবেশী ও চাচা সম্পর্কের ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর স্বামী জীবিকার প্রয়োজনে বরিশালে অটোরিকশা চালান। এ কারণে ওই নারী দুই শিশুসন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি এক বছর বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে ছিলেন। তাঁর শাশুড়ি ছিলেন ঘরের পেছনের বারান্দায়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে আফাজ ঘরের উত্তর পাশের টিনের বেড়া খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ঘরে ঢুকে অভিযুক্ত ব্যক্তি গৃহবধূর মুখ চেপে ধরেন এবং শিশুসন্তানের গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয় দেখিয়ে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর খাট ও তোষকের নিচে রাখা কিস্তির টাকা এবং বাজারের জন্য রাখা ৩ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী। পরে তিনি ডাক-চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত তাকে হত্যা ও আহত করার হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে অভিযুক্ত ঘর থেকে বের হয়ে যান। বৈদ্যুতিক বাতির আলোয় তাকে দেখে চিনতে পেরেছেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী প্রতিবেশী খাদিজাকে বিষয়টি জানান। এ সময় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং আত্মহত্যার কথা বলেছিলেন বলে জানা গেছে। পরে খাদিজা তাকে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
ভুক্তভোগীর স্বামী জুলাস মিয়া বলেন, ‘জীবিকার তাগিদে আমি বরিশালে অটোরিকশা চালাই। ঘটনার কথা শুনে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানাই। অভিযুক্ত আফাজ আমার চাচা সম্পর্কের। আমার স্ত্রীর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।