অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে ব্যাংক থেকে নিজের টাকা তুলতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন চট্টগ্রামের গ্রাহক মো. আলাউদ্দিন। সেই ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর অবশেষে নিজের আমানতের টাকা তুলতে পেরেছেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হালিশহরে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জোনাল অফিসে গিয়ে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তোলেন আলাউদ্দিন। এদিন তাঁর সঙ্গে আরও প্রায় ৩৫ জন গ্রাহক টাকা উত্তোলন করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় এবং পরে কেক কেটে ও মিষ্টি খাইয়ে তাদের স্বাগত জানায়।
আলাউদ্দিন একীভূত হওয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক। গত ২৪ আগস্ট টাকা উত্তোলনের দাবিতে ব্যাংকের হালিশহর জোনাল অফিসে আয়োজিত কর্মসূচিতে গিয়ে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে টাকা তুলতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
টাকা হাতে পাওয়ার পর আলাউদ্দিন বলেন, তাঁর মা এখন কিছুটা সুস্থ আছেন। মায়ের চিকিৎসার খরচের জন্য টাকা তুলতে না পেরে তাঁর কান্নার দৃশ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি সবার নজরে আসে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। এরপরই আমানত ফেরতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসে বলে জানান তিনি। এ জন্য গণমাধ্যমের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আলাউদ্দিন।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের যেসব আমানতকারী পুরো টাকা তুলতে চান, তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ জন্য ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়। এরপর নির্ধারিত শাখা থেকে তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হয়।
আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, হালিশহর শাখায় আসা প্রায় ৩৫ জন গ্রাহকই তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তুলতে পেরেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে টাকা উত্তোলনের দাবিতে আন্দোলন করে আসা গ্রাহকদের মধ্যে আলাউদ্দিনের কান্নার ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত টাকা হাতে পাওয়ায় তাঁর সেই অপেক্ষার অবসান হলো।