কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তারে বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ চাকরি হারাবেন—এমন আশঙ্কা গত কয়েক বছরে বেশ জোরালো হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কিছু পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তব চিত্র এখন পর্যন্ত সেই আশঙ্কার সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। বরং এআইকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের বড় বাজার।
বিশ্বখ্যাত সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইয়ের প্রভাবে কিছু প্রচলিত পেশার কাজ কমলেও প্রযুক্তিটিকে ঘিরে নতুন চাকরির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এআই অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। এটি দেশটির সাম্প্রতিক দশকগুলোর তুলনায় বেশ নিম্ন পর্যায়ের বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এআইয়ের কারণে কাস্টমার সার্ভিসসহ কিছু রুটিনভিত্তিক কাজ কমেছে। এসব পরিবর্তনের ফলে প্রায় দুই লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে একই সময়ে প্রযুক্তি খাত ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোয় তৈরি হয়েছে এর চেয়ে অনেক বেশি নতুন কাজের সুযোগ।
প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এআইয়ের প্রসারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ লাখ নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এআই ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ডাটা সেন্টার নির্মাণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ অবকাঠামো সম্প্রসারণের ফলে চাহিদা বেড়েছে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, ইলেকট্রিশিয়ান ও নির্মাণকর্মীদের। একই সঙ্গে সফটওয়্যার ডেভেলপার, ডাটা সায়েন্টিস্ট এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের প্রয়োজনও দ্রুত বাড়ছে।
অর্থাৎ, এআই শুধু কম্পিউটার বা সফটওয়্যার খাতেই কর্মসংস্থান তৈরি করছে না; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে নির্মাণ, বিদ্যুৎ, প্রকৌশলসহ একাধিক খাতে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রযুক্তি যখন কোনো একটি কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে শুরু করে, তখন সেই প্রযুক্তি তৈরি, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হয়।
এআইয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে কিছু পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ মেশিনের মাধ্যমে করা সম্ভব হচ্ছে, অন্যদিকে এআই সিস্টেম চালাতে প্রয়োজন হচ্ছে ডাটা, সফটওয়্যার, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও মানবসম্পদের।
ফলে বর্তমান বাস্তবতায় এআইকে শুধু চাকরি ধ্বংসের প্রযুক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং কর্মক্ষেত্রের ধরন বদলে দিয়ে এটি একই সঙ্গে নতুন পেশা ও নতুন কর্মসংস্থানের দরজাও খুলে দিচ্ছে।
তবে ভবিষ্যতে এআইয়ের কারণে কোন ধরনের চাকরি সবচেয়ে বেশি বদলে যাবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ কতটা বাড়বে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে প্রযুক্তির অগ্রগতি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রমবাজারের সঙ্গে মানুষের অভিযোজনের ওপর।