৩ কোটি টাকার কচুরিপানা পরিষ্কারে অনিয়মের অভিযোগ, ঠিকাদারকে নোটিশ

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা

সারাদেশ

বরগুনার আমতলীতে চাওড়া নদী ও এর শাখা নদীর ১৫ কিলোমিটার অংশের কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দরপত্রের

2026-09-07T20:10:05+00:00
2026-09-07T20:10:05+00:00
  মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
৩ কোটি টাকার কচুরিপানা পরিষ্কারে অনিয়মের অভিযোগ, ঠিকাদারকে নোটিশ
আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১০ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বরগুনার আমতলীতে চাওড়া নদী ও এর শাখা নদীর ১৫ কিলোমিটার অংশের কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কচুরিপানার শিকড়সহ অপসারণের কথা থাকলেও মেশিন দিয়ে শুধু ওপরের অংশ কেটে ফেলা হচ্ছে। এতে নদী পরিষ্কারের পরিবর্তে কচুরিপানা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমতলী উপজেলার চাওড়া নদী ও শাখা নদীর প্রায় ৩০ কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানায় আচ্ছাদিত। প্রায় ২৫ বছর ধরে জমে থাকা কচুরিপানার কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের দাবির পর ২০২৩ সালে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘সুবন্ধী প্রকল্প’ নামে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নেয়। প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫ কিলোমিটার নদীপথ পরিষ্কারের কাজ পান পটুয়াখালীর ঠিকাদার বশির উদ্দিন। সম্প্রতি কাজ শুরু হওয়ার পরই পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী শ্রমিক দিয়ে কচুরিপানার গোড়া মাটি থেকে তুলে অপসারণ করার কথা। এতে শিকড় নষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতে কচুরিপানা আবার দ্রুত জন্মানোর সুযোগ কমে। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারের লোকজন মেশিন ব্যবহার করে কেবল কচুরিপানার ওপরের অংশ কেটে ফেলছেন।

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, একটি মেশিন দিয়ে নদীর ওপরের অংশে থাকা কচুরিপানা কেটে ফেলা হচ্ছে। তবে এর শিকড় ও গোড়ার অংশ নদীতে রয়ে যাচ্ছে। কেটে ফেলা কচুরিপানার একটি অংশও নদীর পানিতে পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

নদীপাড়ের বাসিন্দা শিবলী শরীফ ও নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এভাবে কচুরিপানা কাটলে সেটি পুরোপুরি নির্মূল হবে না। বরং গোড়া থেকে নতুন করে কচুরিপানা জন্ম নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তাদের আশঙ্কা, নদীতে পড়ে থাকা কাটা কচুরিপানা পচে পানির দুর্গন্ধ ও দূষণ আরও বাড়াতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুফিয়া বেগম বলেন, দীর্ঘদিন পর কচুরিপানা পরিষ্কার শুরু হওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু যেভাবে কাজ করা হচ্ছে, তাতে উপকারের বদলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার বশির উদ্দিনের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন বলেন, নদীর পানি নষ্ট ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় শ্রমিকরা পানিতে নামতে চাইছেন না। এ কারণে মেশিন দিয়ে কচুরিপানা কেটে নদীর কিনারে তুলে আনা হচ্ছে।

এদিকে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর ঠিকাদারকে নোটিশ দিয়েছে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড। উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান জানান, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কচুরিপানার গোড়া মাটি থেকে তুলে ফেলতে হবে, যাতে পুনরায় বংশবিস্তার করতে না পারে।

তিনি বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ না হলে এর দায়ভার ঠিকাদারকেই নিতে হবে। নিয়ম মেনে কাজ না করলে কাজের বিলও ছাড় করা হবে না বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান বলেন, ঘন কচুরিপানা যথাযথভাবে পরিষ্কারের জন্য ঠিকাদারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দরপত্র ও নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পের কাজ যেন শুধু নামমাত্র পরিষ্কারে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত করে প্রকল্পের অর্থ ও কাজের মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: