চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার আমবাগান রেলওয়ে কলোনি এলাকায় হিজড়া সম্প্রদায়ের নেত্রী মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়া (৫২) হত্যার ঘটনায় মো. মোমিন ওরফে শেখ রনি (৩৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা, গরু বিক্রির টাকা লুটের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে মৌসুমীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোমিনকে শনাক্তের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পুলিশ এসব তথ্য জানায়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে মোমিন আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিষয়টির কথা স্বীকার করেছেন।
গ্রেপ্তার মোমিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার সব্দলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার পাঠানপাড়ায় ফাল্গুনী হিজড়া নামে এক নেত্রীর বাসায় থাকতেন। সেখানে তিনি ওই নেত্রীর ‘কথিত স্বামী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
গরু বিক্রির পরদিনই মরদেহ উদ্ধার
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মৌসুমী তার বাসার পেছনের খামারের একটি গরু বিক্রি করেন। বিক্রির টাকা তিনি ঘরেই রেখেছিলেন। পরদিন আরও গরু কেনার পরিকল্পনাও ছিল তার।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে আমবাগান রেলওয়ে কলোনিতে নিজের ঘর থেকে মৌসুমীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই ঘরে একাই বসবাস করতেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর তার ঘর থেকে গরু বিক্রির নগদ টাকা ও ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি। এ কারণে টাকা লুটের উদ্দেশ্য হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
সিসিটিভিতে ধরা পড়ে সন্দেহভাজন
হত্যার তদন্তে আশপাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। সেখানে দেখা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ১৪ মিনিটে সাদা টি-শার্ট পরা এক যুবক মৌসুমীর ঘরে প্রবেশ করছেন।
প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৫২ মিনিটে ওই যুবককে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। ফুটেজ বিশ্লেষণের পর পুলিশ তাকে মোমিন হিসেবে শনাক্ত করে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে ভোরের দিকে মৌসুমীর ঘর থেকে বাকবিতণ্ডার শব্দ শুনেছিলেন প্রতিবেশীরা। তবে পরিচিত কেউ এসেছেন ভেবে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।
পরদিন সকালে দীর্ঘ সময় মৌসুমীর কোনো সাড়া না পেয়ে হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্য পাখি রহমান তার ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি মৌসুমীকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল, চোখ ফোলা ছিল এবং জিহ্বা বের হয়ে ছিল। পরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেফতার যুবক জবানবন্দিতে এ বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত মৌসুমী হিজড়া সম্প্রদায়ের কাছে ‘গুরু মা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। আমবাগান এলাকায় বসবাসের পাশাপাশি তিনি বাড়ির পেছনে গরুর খামার পরিচালনা করতেন।