বরগুনা সদর উপজেলার ক্রোক এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও কম্বোডিয়ান মুদ্রা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে বিবৃতি দিয়েছে বরগুনা জেলা পুলিশ।
জেলা পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল সদর উপজেলার ক্রোক এলাকায় যায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কথিত মাদক ব্যবসায়ী জসিম পঞ্চায়েত ও তার ভাই নুরু পঞ্চায়েতকে আটকের উদ্দেশ্যে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযানের একপর্যায়ে বাড়ির সামনের উঠান থেকে নুরু পঞ্চায়েতকে আটক করা হয়। এ সময় পরিবারের কয়েকজন নারী সদস্য তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পুলিশের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। এতে এসআই মঞ্জুরুল হাসান ও কনস্টেবল রাকিবুল আহত হন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে নুরু পঞ্চায়েতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি তার কাছে মাদক থাকার কথা স্বীকার করেন। এরপর তার পরিহিত প্যান্টের পকেট তল্লাশি করে ২০০ পিস ইয়াবা ও ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই এসব মাদক জব্দ করে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিবৃতিতে বলা হয়, মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নুরু পঞ্চায়েতের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা দিলে তার ঘরের দোতলার শয়নকক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে একটি প্লাস্টিকের ওয়ারড্রবের ড্রয়ারে রাখা লাল খামের ভেতর থেকে ১০০ কম্বোডিয়ান রিয়েলের ৫৭টি নোট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, উদ্ধার হওয়া নোটগুলোর এক পাশে ইংরেজিতে ‘NATIONAL BANK OF CAMBODIA 2014’ এবং অপর পাশে সিরিয়াল নম্বর রয়েছে। এসব বৈদেশিক মুদ্রা কীভাবে তাদের কাছে এলো, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নুরু পঞ্চায়েত বা তার পরিবারের সদস্যরা কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে দাবি পুলিশের।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে মুদ্রাগুলোর মালিকানার বৈধ কাগজপত্র পরবর্তীতে ডিবি কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ৪ সেপ্টেম্বর বরগুনা থানায় মামলা করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি বরগুনা থানার মামলা নম্বর-০৮, তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
পরে উদ্ধার হওয়া বৈদেশিক মুদ্রার বৈধ মালিকানা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়নি বলে জানায় পুলিশ। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর নুরু পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে Foreign Exchange Regulation Act, 1947-এর ২৩(১) ধারায় পৃথক মামলা করা হয়।
অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়ে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সে জন্য তল্লাশি কার্যক্রমের পুরো প্রক্রিয়া এএসআই অনিক ভিডিও ধারণ করেছেন বলেও জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি ১০০ কম্বোডিয়ান রিয়েলের বাংলাদেশি মূল্য ৩ টাকা ৩ পয়সা। সেই হিসাবে ৫৭টি নোটের মোট মূল্য দাঁড়ায় ১৭২ টাকা ৭১ পয়সা।
বরগুনা জেলা পুলিশ বলছে, অভিযান ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে পুলিশের দাবি, পলাতক জসিম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা রয়েছে। তাকে মাদক মামলায় সরবরাহকারী ও পাইকারি মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে এজাহারভুক্ত করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
জেলা পুলিশের অভিযোগ, এর পরিপ্রেক্ষিতে জসিম পঞ্চায়েতের স্ত্রী জেসমিন ও পরিবারের সদস্যরা পুলিশের অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।