দুই শিশুর পেটে ৬ হাজার ৬১৫ ইয়াবা! চট্টগ্রামে চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাদেশ

হতদরিদ্র শিশুদের ব্যবহার করে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের প্রধান শারমিন আক্তার ওরফে ইসমত আরাকেগ্রেপ্তারকরেছে র‌্যাব-৭।

2026-09-07T19:30:08+00:00
2026-09-07T19:30:08+00:00
  মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
দুই শিশুর পেটে ৬ হাজার ৬১৫ ইয়াবা! চট্টগ্রামে চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার
চট্টগ্রাম ব্যুরো
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
হতদরিদ্র শিশুদের ব্যবহার করে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের প্রধান শারমিন আক্তার ওরফে ইসমত আরাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭। একই সঙ্গে তার সঙ্গে থাকা ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাবের দাবি, শিশু দুটির পাকস্থলীতে কৌশলে ইয়াবার প্যাকেট ঢুকিয়ে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হচ্ছিল। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে দুই শিশুর পাকস্থলী থেকে মোট ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা বের করা হয়।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় র‌্যাব-৭-এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম।

র‌্যাব জানায়, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের দিয়ে মাদক পরিবহনের কাজ করিয়ে আসছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির গতিবিধি নজরদারিতে রাখার পর আনোয়ারা উপজেলার সরকারহাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে শারমিন আক্তারকে গ্রেপ্তার এবং তার সঙ্গে থাকা দুই শিশুকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশু দুটির পরিবারকে মাসে ৮ হাজার টাকা ভাতা এবং বাজার খরচ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। পরে তাদের কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে পলিথিনে মোড়ানো ছোট ছোট ইয়াবার প্যাকেট কৌশলে শিশু দুটির পাকস্থলীতে প্রবেশ করানো হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

হেফাজতে নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে শিশু দুটি তাদের শরীরে ইয়াবা থাকার কথা জানায়। পরে তাদের চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পাকস্থলীতে ইয়াবার প্যাকেট থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এরপর চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ধারাবাহিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাপদে ইয়াবাগুলো বের করে আনা হয়।

র‌্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর বাড়ি বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায়। তাদের একজনের বয়স ৯ বছর এবং অন্যজনের ১২ বছর।

৯ বছর বয়সী শিশুটির পাকস্থলী থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ৩ হাজার ৩০০টি এবং ১২ বছর বয়সী শিশুটির পাকস্থলী থেকে ৩ হাজার ৩১৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সংখ্যা ৬ হাজার ৬১৫টি। র‌্যাবের হিসাবে এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।

র‌্যাব কর্মকর্তা তাওহিদুল ইসলাম বলেন, পাকস্থলীতে ইয়াবা বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো প্যাকেট ছিদ্র হয়ে মাদক শরীরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়লে মারাত্মক বিষক্রিয়া হতে পারে। এমনকি বাইরে থেকে তাৎক্ষণিক কোনো লক্ষণ দেখা না গেলেও শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এ ঘটনায় চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তার শারমিন আক্তারকে উদ্ধার করা আলামতসহ পাঁচলাইশ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: