টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও পরবর্তীতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে আসামি করায় বিপাকে পড়েছে পরিবারটি। মামলায় নাম আসার পর গ্রেপ্তার এড়াতে রফিকুল ইসলাম ও তার বোন জামাই লিটন আত্মগোপনে রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তাদের অনুপস্থিতিতে বন্ধ হয়ে গেছে তাদের পরিচালিত তাঁত কারখানা। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কারখানাটির শতাধিক শ্রমিক।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি কালিহাতী উপজেলার দড়িখশিল্লা নদীর পাড়ে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে রামপুর বিলপাড়া গ্রামের কুরান আলীর সঙ্গে শাহী ও রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম ধলার বিরোধ ও মারামারি হয়। পরে কুরান আলী টাঙ্গাইল ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফেরার পর তিনি মারা যান।
কুরান আলীর মৃত্যুর ঘটনায় কালিহাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় শফিকুল ইসলাম ধলার পাশাপাশি তার বড় ভাই রফিকুল ইসলাম, বোন জামাই লিটন ও শাহীকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে রফিকুল ইসলামের পরিবারের দাবি, সংঘর্ষ কিংবা কুরান আলীর মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে রফিকুল ও লিটনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে তাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মামলায় নাম আসার পর গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় রফিকুল ইসলাম ও লিটন বাড়িতে থাকতে পারছেন না। তারা আত্মগোপনে থাকায় তাদের পরিচালিত তাঁত কারখানাটিও বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে মজুত সুতা ও তৈরি শাড়ির।
কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে কর্মরত শতাধিক শ্রমিকও বর্তমানে বেকার হয়ে পড়েছেন। এসব শ্রমিকের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ওই কারখানার আয়ের ওপর নির্ভরশীল। দ্রুত কারখানা চালু এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাইয়ুম সিদ্দিকী খান বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বলা যাবে কে প্রকৃত অপরাধী।
রফিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে রেহাই দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।