কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়লেও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর গ্রামাঞ্চলে এখনো টিকে আছে গরুর হাল। পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের দাপটে কাঠের লাঙল, জোয়াল ও গরুর হালের ব্যবহার কমে গেলেও ছোট ও বিচ্ছিন্ন জমিতে এখনো এর প্রয়োজন রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বাপ-দাদার আমল থেকে গরুর হাল দিয়ে জমি চাষের পাশাপাশি অনেকে লাঙল, জোয়াল ও হালের সরঞ্জাম তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। একসময় প্রায় প্রতিটি কৃষকের বাড়িতেই গরু ও লাঙল ছিল। বর্তমানে যন্ত্রনির্ভর চাষাবাদ বাড়ায় সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।
কৃষক আল আমিন বলেন, ‘আগে প্রতিদিনই হাল-জোয়ালের ক্রেতা পাওয়া যেত। এখন মেশিনের কারণে চাহিদা কমেছে। তবে ছোট জমি কিংবা যেসব স্থানে বড় কৃষিযন্ত্র নেওয়া সম্ভব নয়, সেসব জায়গায় এখনো গরুর হালের প্রয়োজন হয়।’
স্থানীয় কৃষকদের মতে, গরুর হাল শুধু কৃষিকাজের উপকরণ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ বাংলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। ভোরে গরুর গলায় ঘণ্টার শব্দ, জমিতে লাঙল চালানো এবং কৃষকের হাঁকডাক—এসব দৃশ্য এখন কম দেখা গেলেও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।
৬০ বছর বয়সী কৃষক করিম উদ্দিন বলেন, ‘মেশিনে দ্রুত জমি চাষ করা যায়। কিন্তু সব জমিতে মেশিন নেওয়া যায় না। তখন গরুর হালই ভরসা।’
৭৫ বছর বয়সী সাদেব আলী জানান, কয়েক দশক ধরে কাঠের লাঙল, জোয়াল ও হালের বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে ক্রেতা কমলেও পুরোনো এই কাজ এখনো ধরে রেখেছেন।
কৃষক আলিম বলেন, ‘সব কাজ মেশিন দিয়ে করা সম্ভব নয়। পুরোনো এই পদ্ধতিরও প্রয়োজন আছে। যতদিন মানুষ চাইবে, ততদিন হাল তৈরি ও বিক্রি করে যাব।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ায় কম সময়ে বেশি জমি চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে শ্রম ও উৎপাদন খরচও কমছে। তবে ছোট ও বিচ্ছিন্ন জমিসহ বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এখনো গরুর হালের ব্যবহার রয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষির আধুনিকায়নের পাশাপাশি গ্রামীণ কৃষির ঐতিহ্যবাহী এসব উপকরণও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।