জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামী পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে—এমন দাবি করে দলটির উদ্দেশে কড়া মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, একদিন জামায়াতের নেতাকর্মীরাই আক্ষেপ করে বলবেন, ‘দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষলাম।’
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন দাবি করেন, জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। জামায়াতের অনুরোধের পর পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত তাদের গাড়িবহরকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, সহযোগিতা না চাইলেও একই ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হতো।
তবে লংমার্চ ঘিরে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, রাতে মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হয়েছিল। পরে এসব লাঠি গাড়িবহরে তোলা হয়েছিল কি না, তা তিনি জানেন না বলেও উল্লেখ করেন।
এনসিপির লংমার্চে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের কথিত উসকানিমূলক স্লোগান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তাঁর মতে, পুরো আয়োজন দেখে অনেকেরই মনে হয়েছে, এটি জামায়াতের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলের ওপর নির্ভর করে হওয়া এনসিপির লংমার্চ।
তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াত সরাসরি সামনে না থেকে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে রাজনৈতিকভাবে ‘মাঝখান থেকে খেলতে’ চাইছে।
রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্টও এনসিপিকে জামায়াতের মুখপাত্র হিসেবে দেখানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। তাঁদের অনেকের প্রশ্ন, এনসিপি ভবিষ্যতে জামায়াতের জোট ছেড়ে দিলে এখন তাদের এত গুরুত্ব দেওয়ার কারণ কী।
জামায়াতের জোটসঙ্গীদের নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিএনপি এনসিপিকে চারটির বেশি আসন ছাড়েনি বলেই তারা জামায়াতে গেছে। একইভাবে মাওলানা মামুনুল হকের দলও পর্যাপ্ত আসন পেলে বিএনপির সঙ্গেই থাকত বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদেরও আসন সমঝোতার কারণেই জামায়াতের সঙ্গে থাকার দাবি করেন রাশেদ খাঁন।
তিনি বলেন, জামায়াত যাদের ওপর ভরসা করে অর্থ ও শ্রম ব্যয় করছে, তারাই ভবিষ্যতে দলটির জন্য বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
এনসিপির অতীতের জামায়াতবিরোধী বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, দলটি অতীতে জামায়াতকে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রবিরোধী শক্তি’, ‘ভারতের এক্সটেনশন’ এবং ‘ইসলামিক দল নয়’—এমন নানা বক্তব্য দিয়েছে।
সবশেষে জামায়াতের ভবিষ্যৎ নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এখন থেকেই একটি ‘ভবিষ্যতের ডায়েরি’ কিনে রাখা উচিত, যাতে পরবর্তীতে কে কী বক্তব্য দেয় তা নোট করা যায়।
রাশেদ খাঁনের দাবি, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে এবং বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে—এমন জনশ্রুতি রয়েছে।
এরপরই জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘একদিন আপনারাই বলবেন, দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষলাম!’