ইরানের বিক্ষোভে দুই যমজ বোন, একজনের ফাঁসি অন্যজনের ২৫ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী যমজ দুই বোনের জীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ পরিণতি। তারানেহ রহিমিকে ফাঁসিতে

2026-09-06T16:55:33+00:00
2026-09-06T16:55:33+00:00
  রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
 
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানের বিক্ষোভে দুই যমজ বোন, একজনের ফাঁসি অন্যজনের ২৫ বছরের কারাদণ্ড
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৫ পিএম 
তারানেহ ও রোমিনা রহিমি। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী যমজ দুই বোনের জীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ পরিণতি। তারানেহ রহিমিকে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড এবং তাঁর যমজ বোন রোমিনা রহিমিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জানুয়ারিতে ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেন তারানেহ ও রোমিনা। এর প্রায় এক মাস পর গভীর রাতে মুখোশধারী কয়েকজন তাঁদের বাড়িতে ঢুকে দুই বোনকে তুলে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, ওই ব্যক্তিরা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর সদস্য ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুই মেয়েকে খুঁজতে প্রায় চার মাস ধরে হাসপাতাল ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘুরেছেন তাঁদের মা মারজিয়েহ নুরমোহাম্মাদি। পরে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর দুই মেয়েকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

গত মে মাসে ইসফাহানের দৌলতাবাদ কারাগারে মেয়েদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন মা। পরিবারের দাবি, মারধরের কারণে দুই বোনের মুখ ফুলে গিয়েছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। চুল ধরে টেনে এক সেল থেকে অন্য সেলে নেওয়ার কারণে তাঁদের মাথার বিভিন্ন অংশের চুল উঠে গিয়েছিল বলেও দাবি পরিবারের।

তাঁদের চাচাতো ভাই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মাসউদ নুরমোহাম্মাদি জানান, দুই বোনের কনুই, আঙুলের গাঁট ও পায়েও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।

আদালতে তারানেহ অভিযোগ করেন, নির্যাতনের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। এমনকি স্বীকারোক্তিতে সই না করলে তাঁর চোখের সামনে রোমিনাকে ধর্ষণ করা হবে—কারারক্ষীরা এমন হুমকি দিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবারের দাবি, দুই বোনের বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁদের মা উপস্থিত থাকতে পারেননি। বিক্ষোভে সহিংসতায় জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো প্রমাণও পরিবার বা আইনজীবীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।

তবে কেন একই মামলায় দুই বোনের একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যজনকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

তারানেহ ও রোমিনার পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর ব্যবস্থা শুধু শাস্তি দেওয়ার ঘটনা নয়; বরং ইরানের সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর একটি কৌশল।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ইরানে ৫০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ২৯ জন রয়েছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ১৬ জন নারীও রয়েছেন। শুধু ইসফাহানেই ৭০-এর বেশি বিক্ষোভকারী মৃত্যুদণ্ডের মুখে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত মাসে যুক্তরাজ্যসহ ৩১টি দেশ জানুয়ারির বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। দেশগুলোর অভিযোগ, ভিন্নমত দমনের উদ্দেশ্যেই এসব মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে।


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: