জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেটের একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাবেন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হতে পারে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত প্রায় ছয় মাসে বর্তমান সরকার একটি শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা ও দৃশ্যমানতা বেড়েছে। এর ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাঠানো চিঠির প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর আস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের মধ্যে যত চ্যালেঞ্জই থাকুক, আলোচনার পথ সবসময় খোলা রাখা হবে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি কার্যকর ও ভালো সম্পর্ক প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আরও নমনীয় ও গতিশীল হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কোনো একটি জোটের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেই অন্য কোনো পক্ষের সঙ্গে কাজ করা যাবে না, এমন ধারণা ঠিক নয়। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণ ও দেশের সার্বভৌম স্বার্থকে সামনে রেখেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও কথা বলেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, প্রয়োজন ও চাহিদার ভিত্তিতেই বোয়িং কেনা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আরও উড়োজাহাজ কেনা হতে পারে। একই সঙ্গে এয়ারবাসও কেনা হবে বলে জানান তিনি।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার সিন্ডিকেটের কারণে দেশটিতে শ্রমশক্তি রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমান সরকার সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে দাবি করে হুমায়ুন কবির বলেন, এখন ধাপে ধাপে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
এ সময় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।