লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) নিয়ন্ত্রণে দেশের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে এলএসডি ভ্যাকসিন উৎপাদন ও বাজারজাত করা সম্ভব হলে খামারিদের ব্যয় কমার পাশাপাশি ভ্যাকসিনের সহজলভ্যতা বাড়বে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার রাইচু ঈদগাঁহ মাঠে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত এলএসডি ও গোটপক্স ভ্যাকসিনের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, লাম্পি স্কিন ডিজিজ গবাদিপশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি রোগ। এ রোগ ছড়িয়ে পড়লে খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। তাই রোগ প্রতিরোধে সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি জানান, দেশে প্রতি বছর প্রায় আড়াই কোটি ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়। এতদিন বিদেশ থেকে আমদানি করা ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভর করতে হলেও এখন দেশেই এই ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশীয় উৎপাদন চালু হলে খামারিদের খরচ কমবে এবং প্রয়োজনের সময় ভ্যাকসিন পাওয়া সহজ হবে।
খামারিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, গবাদিপশুকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত টিকাদানের বিকল্প নেই। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এলএসডির টিকা দিতে হবে। একটি খামারে রোগ দেখা দিলে তা দ্রুত অন্য পশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
গবাদিপশুর খাদ্য ব্যয় কমাতে বিএলআরআই উদ্ভাবিত উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন নতুন ঘাস চাষের ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন জাতের এই ঘাসে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। এটি চাষ করা হলে কম খরচে উন্নতমানের পশুখাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে এবং দানাদার খাদ্যের ওপর খামারিদের নির্ভরতা কমবে।
দেশের ঐতিহ্যবাহী ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে সরকার নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করছে বলেও জানান মন্ত্রী। কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি, প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের ছাগল সরবরাহ এবং বিপণনে সহায়তা দেওয়া হবে। এতে নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান প্রাণিসম্পদ সম্পদ। এর মাংস ও চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে। পরিকল্পিত সম্প্রসারণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ খাত গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান।
এ সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি তাজুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক খামারি উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে লাম্পি স্কিন ডিজিজ ও গোটপক্সের প্রাদুর্ভাব বিবেচনায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহায়তায় শুরু হওয়া এ টিকাদান কর্মসূচিতে ২ হাজার ডোজ এলএসডি এবং ১০০ ডোজ গোটপক্স ভ্যাকসিন গবাদিপশুর মধ্যে প্রয়োগ করা হচ্ছে।